ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি/রাস্তার পাশে সন্তান প্রসবের ঘটনাটি নেপালের
স্ট্রিম প্রতিবেদক
-0640ea-480x270.webp)
ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়েছে, যেখানে রাস্তার পাশে এক নারীকে সন্তান প্রসব করতে দেখা যায়। পোস্টে ঘটনাস্থল সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
সেখানে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ‘দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে’। একই পোস্টে #বাংলাদেশ হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পোস্টটি দেখে ঘটনাটি বাংলাদেশের কোনো সরকারি হাসপাতালের বলে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মনে ধারণা তৈরি হতে পারে।
একই ছবি ব্যবহার করে করা আরও পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
পোস্টটির মন্তব্যেও দেখা যায়, কিছু ব্যবহারকারী ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ঘটনা মনে করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘প্রতিটি হাসপাতালের এই অবস্থা দিনে দিনে বেড়েই চলছে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।’
তবে স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা যায়, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। এটি নেপালের মধেশ প্রদেশের সপ্তরী জেলার রাজবিরাজে ঘটেছে।
ছবিটির উৎস খুঁজতে গিয়ে নেপালের একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। নেপালের সংবাদমাধ্যম হিমালয়া টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তরী জেলার রাজবিরাজে অবস্থিত গজেন্দ্র নারায়ণ সিং হাসপাতালে প্রসবের জন্য গিয়েছিলেন ববিতা পাশওয়ান।
ববিতার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও এক্স-রেসহ কয়েকটি পরীক্ষা করাতে ৩ হাজার ২০০ নেপালি রুপি লাগবে বলে জানানো হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষার জন্য অর্থ জোগাড় করতে না পেরে ববিতা, তাঁর স্বামী ও আরেক নারী হাসপাতালের বাইরে এসে বসেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর প্রসববেদনা শুরু হলে হাসপাতালের মূল গেটের কাছের সড়কেই তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন।
১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সপ্তরী জেলার রাজবিরাজে অবস্থিত গজেন্দ্র নারায়ণ সিং হাসপাতালে প্রসববেদনা নিয়ে যাওয়া ৩০ বছর বয়সী ববিতা কুমারী পাশওয়ান প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষার খরচ জোগাড় করতে না পেরে হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের বাইরের ফুটপাতে তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ববিতা ও নবজাতককে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ফিরিয়ে এনে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবারটি তাদের অর্থসংকটের কথা জানায়নি। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষার খরচ সামাজিক সেবা ইউনিট থেকে বহনের সুযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নেপাল মেডিকেল কাউন্সিল পৃথক তদন্ত দল রাজবিরাজে পাঠায়।
অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যায়, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। এটি নেপালের রাজবিরাজে ঘটেছে।
.png)

-7c29dd-256x144.webp)




