এনবিআরের দুই কর পরিদর্শকের বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার, একজনকে চাকরি থেকে অপসারণ
স্ট্রিম প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর পরিদর্শকের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রকাশ্যে বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগের এক কর পরিদর্শককে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের কর প্রশাসন-২ শাখার পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপনগুলো এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ জুন এনবিআরের পাঁচজন উপ কর কমিশনারের বদলির আদেশ গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয় দুই কর পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন ও মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের বিরুদ্ধে। রুহুল আমিন কর অঞ্চল-৬ এবং আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কর পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
অসদাচরণের অভিযোগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়।
পরে সেই ঘটনার তদন্তে এনবিআরের প্রথম সচিব (কর নীতি) মো. জাফর ইমামকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘অকাট্যরূপে প্রমাণ হয়নি’।
অভিযুক্ত দুজনের বক্তব্য, তদন্ত প্রতিবেদন ও সার্বিক নথি পর্যালোচনা শেষে এনবিআর তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আগে জারি করা তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে এনবিআর সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাদের দণ্ডাদেশ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। ২০২৫ সালের মে মাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ওই কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাদের বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। কেউ কেউ আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। কেউ নিজ দপ্তর বন্ধ রেখে আন্দোলনে অংশ নেন।
এদিকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ হওয়া এনবিআরের গাজীপুর কর অঞ্চলের (সার্কেল-১০) কর পরিদর্শক কাজী নুরে সোহেলা ছুটি ছাড়া দীর্ঘ ১৪ মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। স্বামীর অসুস্থতাজনিত পরিচর্যার জন্য ২০২৪ সালের ৯ জুলাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। ছুটি শেষে সে বছরের ৮ আগস্ট কর্মস্থলে যোগদানের কথা থাকলেও তিনি তা করেননি।
কাজী নুরে সোহেলা ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করেন। তবে এনবিআর তা নামঞ্জুর করে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে তিনি দীর্ঘ ১৪ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণ হয়।
এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সুপারিশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। এর ভিত্তিতেই আদেশ জারি করেছেন এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
.png)

-7c29dd-256x144.webp)




-b7908a-256x144.webp)