leadT1ad

বাজেটকে প্রতারণা ও জনতুষ্টিমূলক বলল এনসিপি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২২: ১০
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে প্রতারণামূলক, কাল্পনিক ও জনতুষ্টিমূলক আখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণনির্ভর বাস্তবতায় এই বাজেট হওয়া উচিত ছিল রূপান্তরমুখী। কিন্তু সরকার বাস্তবতার পরিবর্তে নির্বাচনী ইশতেহারধর্মী প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে একটি বড় আকারের বাজেট উপস্থাপন করেছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার অর্থনীতির মৌলিক অংশীজনদের চাহিদার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিনির্ভর একটি বাজেট উপস্থাপন করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে বাজেট দেখলাম, সেটি জনকল্যাণমুখী বাজেট হওয়ার পরিবর্তে জনতুষ্টিমূলক বাজেটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলার জন্য একটি রূপান্তরমুখী বাজেট প্রয়োজন ছিল।

বাজেট অধিবেশনে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান, সুযোগের সমতা ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণদের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হলেও এর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। দেশের বর্তমান কর আহরণের সক্ষমতা বিবেচনায় সরকার যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি কাল্পনিক বাজেট। জনগণকে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস স্পষ্ট নয়।

ড. আতিকের মতে, সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ এর তুলনায় অনেক কম। ফলে বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

করব্যবস্থার বিভিন্ন প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য উৎসে কর আরোপের সিদ্ধান্তও ব্যবসা সম্প্রসারণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

করমুক্ত আয়সীমা প্রসঙ্গে ড. আতিক বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় করমুক্ত আয়সীমা অন্তত সাড়ে চার লাখ টাকা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকার তা পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়ায়নি।

তিনি আরও বলেন, কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে বাজেটে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান না থাকাও উদ্বেগের বিষয়। এটি নৈতিক ও অর্থনৈতিক— উভয় দিক থেকেই নেতিবাচক বার্তা দেয়।

তবে বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে বলেও স্বীকার করেন এনসিপির নেতারা। যদিও এসব খাতে বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

এনসিপির বাজেট প্রস্তাব কেমন হতো— সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, একটি বাজেট একা পুরো অর্থনীতি বদলে দিতে পারে না। তবে ধারাবাহিকভাবে প্রথাগত বাজেট উপস্থাপন করলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক রূপান্তরও সম্ভব নয়। নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রকৃত মজুরি বাড়ানো এবং সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো প্রবর্তনকে এনসিপি অগ্রাধিকার দিত।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত। এসময় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির।

Ad 300x250

সম্পর্কিত