ক্রেডিট কার্ডের আদলে আসবে প্রবাসী কার্ড, মিলবে নানা সুবিধা: মন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রবাসীদের জন্য ক্রেডিট কার্ডের আদলে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংগৃহীত ছবি

প্রবাসীদের জন্য ক্রেডিট কার্ডের আদলে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড থাকলে বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন হবে না এবং প্রবাসীরা ভূমি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার ও সুবিধা পাবেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান।

এ সময় প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে একটি বিশেষ সেল গঠনের ঘোষণাও দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, 'প্রবাসী কার্ড হলে বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটি কার্ড দিয়েই যেন সব সুবিধা পাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।'

আরিফুল হক চৌধুরী জানান, প্রবাসী কার্ডটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে। একটি বিশেষ সেলে আবেদনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যরা এই কার্ড পাবেন। এতে মুদ্রা বিনিময় সুবিধা, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা, ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে ও ডিজিটাল পরিচয়পত্রের সুযোগ থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, 'প্রবাসী কার্ড দিয়ে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পাওয়া এবং হাসপাতালে আলাদা অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা চাই প্রবাসীরা এই কার্ড দেখালে সব জায়গায় বিশেষ মর্যাদা পান।'

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই আদেশ আজ থেকেই কার্যকর হবে। প্রবাসীরা হোয়াটসঅ্যাপ ও নির্ধারিত ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত বা যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এই সেল গঠন করা হয়েছে। সেলের অন্য সদস্যরা হলেন— কল্যাণ অধিশাখার যুগ্ম সচিব বা উপসচিব, আইন শাখার উপসচিব বা জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, সেবা ও প্রটোকল শাখার উপসচিব বা জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এবং এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব। প্রবাসীরা [email protected] এবং [email protected] ঠিকানায় অভিযোগ পাঠাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা নিয়মিত মন্ত্রী ও সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আমি থাকা পর্যন্ত এখানে কোনো সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। জিরো টলারেন্স। ইনশাআল্লাহ আগামী ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।' তিনি আরও বলেন, 'দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত করা আমার চ্যালেঞ্জ। এটি করতে না পারলে আমি চলে যাব।' সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত