স্ট্রিম প্রতিবেদক

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে মহাসড়ক পারাপারে বন্যপ্রাণীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি ঝুলন্ত পথ বা রোপওয়ে। তবে বনের ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার ও নিচ দিয়ে চলা মালবাহী ট্রাকের ঝুঁকি এড়িয়ে এই পথ তৈরি করাটা খুব সহজ ছিল না।
বন বিভাগ বলছে, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হয়েছে। বন্যপ্রাণীরাও ধীরে ধীরে অভিনব এই ঝুলন্ত পথে অভ্যস্ত হচ্ছে।
উন্নত মানের নাইলনের দড়ি দিয়ে তৈরি এই রোপওয়েগুলো গত জুনে বনের টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অংশে স্থাপন করা হয়। মূলত দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় বানর, হনুমানসহ বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমাতে এই উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ।
রোপওয়ে নির্মাণের কারিগরি দিক নিয়ে টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব স্ট্রিমকে জানান, মহাসড়কের দুই পাশের দূরত্ব প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিটার। এত দীর্ঘ একটি দড়ি শূন্যে টান টান করে বেঁধে রাখা বেশ কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে নানামুখী ঝুঁকি।
তিনি বলেন, ‘বনের ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন গেছে। আবার নিচ দিয়ে মালবাহী উঁচু ট্রাক চলে। রোপওয়ে বেশি নিচু হলে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ঝুঁকি থাকে। আবার ওপরে রয়েছে তারের বিপদ। এসব হিসাব-নিকাশ করে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় রোপওয়েগুলো বাঁধা হয়েছে।’
রানা দেব জানান, দড়ি যেন একদিকে কাত হয়ে না যায়, সেজন্য একটি গাছের বদলে কয়েকটি গাছের সঙ্গে মিলিয়ে এগুলো শক্তভাবে বাঁধা হয়েছে।
গত জুনে বসানোর পর প্রাণীরা এই পথ কতটা ব্যবহার করছে–প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু প্রাণী ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তবে এটি পুরোপুরি অভ্যস্ততার ব্যাপার। বানর বা অন্য প্রাণীদের তো আর প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। ওরা নিজে নিজেই লাফিয়ে বা হেঁটে দড়ির ওপর দিয়ে চলতে শিখছে। নিজেদের জন্য নিরাপদ মনে করলে এর ব্যবহার আরও বাড়বে।’
মহাসড়কে গাড়িচাপায় ঠিক কত বন্যপ্রাণী মারা গেছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বন বিভাগের কাছে নেই বলে জানান রানা দেব, ‘বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি মৃত্যুর ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। মূলত প্রাণহানি কমাতেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ‘মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের আওতায় ঝুলন্ত পথগুলো তৈরি করা হয়েছে।’
বন বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যপ্রাণীর জন্য রোপওয়ে নির্মাণের ঘটনা দেশে এটিই প্রথম নয়। এর আগে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এমন রোপওয়ে ব্যবহার করে সুফল পাওয়া গেছে।
রোপওয়ের দড়িগুলো সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত টিকতে পারে। মধুপুরের উদ্যোগ নিয়ে রানা দেব আরও বলেন, ‘আপাতত এই পাঁচটি পরীক্ষামূলক হিসেবে করা হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি কী পরিমাণ প্রাণী এটি ব্যবহার করছে এবং এর স্থায়িত্ব কেমন হয়। সুফল পেলে ভবিষ্যতে এমন আরও রোপওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হবে।’
টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম সাইফুল্লাহ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের রোপওয়ে করিডোর ব্যবহৃত হচ্ছে। তা থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।
এক সময় মধুপুরের বনটি প্রায় ৬২ হাজার একরে বিস্তৃত ছিল। মধুপুর বনাঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। বন উজাড়, খাবারের সংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বহু বন্যপ্রাণীর জীবন সংকটে। এই রোপওয়ে নির্মাণের ফলে কিছুটা হলেও, তাদের অবাধ বিচরণ নিরাপদ হবে বলে আশা করা যায়।

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে মহাসড়ক পারাপারে বন্যপ্রাণীদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি ঝুলন্ত পথ বা রোপওয়ে। তবে বনের ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার ও নিচ দিয়ে চলা মালবাহী ট্রাকের ঝুঁকি এড়িয়ে এই পথ তৈরি করাটা খুব সহজ ছিল না।
বন বিভাগ বলছে, আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হয়েছে। বন্যপ্রাণীরাও ধীরে ধীরে অভিনব এই ঝুলন্ত পথে অভ্যস্ত হচ্ছে।
উন্নত মানের নাইলনের দড়ি দিয়ে তৈরি এই রোপওয়েগুলো গত জুনে বনের টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অংশে স্থাপন করা হয়। মূলত দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় বানর, হনুমানসহ বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমাতে এই উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ।
রোপওয়ে নির্মাণের কারিগরি দিক নিয়ে টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব স্ট্রিমকে জানান, মহাসড়কের দুই পাশের দূরত্ব প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিটার। এত দীর্ঘ একটি দড়ি শূন্যে টান টান করে বেঁধে রাখা বেশ কঠিন। এর মধ্যে রয়েছে নানামুখী ঝুঁকি।
তিনি বলেন, ‘বনের ওপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন গেছে। আবার নিচ দিয়ে মালবাহী উঁচু ট্রাক চলে। রোপওয়ে বেশি নিচু হলে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ঝুঁকি থাকে। আবার ওপরে রয়েছে তারের বিপদ। এসব হিসাব-নিকাশ করে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় রোপওয়েগুলো বাঁধা হয়েছে।’
রানা দেব জানান, দড়ি যেন একদিকে কাত হয়ে না যায়, সেজন্য একটি গাছের বদলে কয়েকটি গাছের সঙ্গে মিলিয়ে এগুলো শক্তভাবে বাঁধা হয়েছে।
গত জুনে বসানোর পর প্রাণীরা এই পথ কতটা ব্যবহার করছে–প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু প্রাণী ব্যবহার করতে শুরু করেছে। তবে এটি পুরোপুরি অভ্যস্ততার ব্যাপার। বানর বা অন্য প্রাণীদের তো আর প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। ওরা নিজে নিজেই লাফিয়ে বা হেঁটে দড়ির ওপর দিয়ে চলতে শিখছে। নিজেদের জন্য নিরাপদ মনে করলে এর ব্যবহার আরও বাড়বে।’
মহাসড়কে গাড়িচাপায় ঠিক কত বন্যপ্রাণী মারা গেছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বন বিভাগের কাছে নেই বলে জানান রানা দেব, ‘বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি মৃত্যুর ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। মূলত প্রাণহানি কমাতেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ‘মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের আওতায় ঝুলন্ত পথগুলো তৈরি করা হয়েছে।’
বন বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যপ্রাণীর জন্য রোপওয়ে নির্মাণের ঘটনা দেশে এটিই প্রথম নয়। এর আগে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এমন রোপওয়ে ব্যবহার করে সুফল পাওয়া গেছে।
রোপওয়ের দড়িগুলো সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত টিকতে পারে। মধুপুরের উদ্যোগ নিয়ে রানা দেব আরও বলেন, ‘আপাতত এই পাঁচটি পরীক্ষামূলক হিসেবে করা হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করছি কী পরিমাণ প্রাণী এটি ব্যবহার করছে এবং এর স্থায়িত্ব কেমন হয়। সুফল পেলে ভবিষ্যতে এমন আরও রোপওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হবে।’
টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ এস এম সাইফুল্লাহ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচলের রোপওয়ে করিডোর ব্যবহৃত হচ্ছে। তা থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।
এক সময় মধুপুরের বনটি প্রায় ৬২ হাজার একরে বিস্তৃত ছিল। মধুপুর বনাঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। বন উজাড়, খাবারের সংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বহু বন্যপ্রাণীর জীবন সংকটে। এই রোপওয়ে নির্মাণের ফলে কিছুটা হলেও, তাদের অবাধ বিচরণ নিরাপদ হবে বলে আশা করা যায়।
.png)

উপযুক্ত সময় বা পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তবে দ্বিপাক্ষিক এ সফরের জন্য কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
৮ ঘণ্টা আগে
যশোরের শার্শা উপজেলায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই বাড়িতে তার দুই শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশু দুটিকে হত্যার পর তাদের বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
৮ ঘণ্টা আগে-f8f097-256x144.webp)
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আগস্টে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এই জেলায়। এক মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪৩ জন।
৯ ঘণ্টা আগে-05fcfe-256x144.webp)
মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের আল আকসা জামে মসজিদের ইমামের তালাবদ্ধ কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কক্ষটির টিনের বেড়া ও চালার একাংশ উড়ে গেছে এবং ভেতরে থাকা আসবাব ও বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
৯ ঘণ্টা আগে-05fcfe-256x144.webp)