বেলুচিস্তান: স্বাধীনতার দাবি, সংঘাত, ব্ল্যাকআউট ও বাস্তব চিত্র

আব্দুর রহমান সার্জিল
আব্দুর রহমান সার্জিল

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৪৬
ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুক, এক্স এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নেটিজেনরা এই দাবি প্রচার করছেন। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই বলছে, বেলুচিস্তানের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ভিত্তিহীন ও ভুয়া।

প্রকৃতপক্ষে, জুলাইয়ের শুরু থেকে বেলুচিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলা, সড়ক ও রেলপথে নাশকতা, চীনা প্রকল্পকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে। বেলুচ অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, প্রদেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং বাইরের বিশ্ব সেখানে কী ঘটছে, তার পূর্ণ চিত্র জানতে পারছে না। তারা মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের ভেতর আছেন বলে অভিযোগ করছেন।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার বাস্তবতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণার দাবি ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবতা ভিন্ন। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান দেশটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ। সেখানে পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ মানুষের বসবাস।

বর্তমানে বেলুচিস্তানের বড় শহর, সীমান্ত, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের হাতেই রয়েছে বলে পাকিস্তানের বিশ্বস্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় সরকার কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কাঠামোও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ব্যহত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় শহর বা বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। সংগঠনটির নিজস্ব কার্যকর সরকার, নিয়মিত প্রশাসনিক কাঠামো কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও নেই।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য উদ্বেগের নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএলএর হামলার সক্ষমতা ও পরিধি বেড়েছে। একই সময়ে একাধিক স্থানে হামলা, নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সক্ষমতা সংগঠনটি অর্জন করেছে।

যে ইতিহাস থেকে সংঘাতের শুরু

বেলুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ। প্রদেশটি প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, সোনা, কয়লা ও অন্যান্য খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ। একই সঙ্গে আরব সাগরের তীরে অবস্থিত গওয়াদর বন্দর একে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হওয়ার সময় বর্তমান বেলুচিস্তানের একটি বড় অংশ ছিল কালাত নামের স্বাধীণ রাজ্য। স্বাধীনতার পর কালাত কিছু সময়ের জন্য স্বাধীন থাকার চেষ্টা করে। তবে ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয়।

এই অধ্যায়কে ঘিরে এখনো বিতর্ক রয়েছে। বেলুচ জাতীয়তাবাদীরা দাবি করেন, সামরিক চাপের মাধ্যমে কালাতকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের অবস্থান, তৎকালীন শাসক আনুষ্ঠানিকভাবেই পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় দল

বর্তমানে সবচেয়ে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ), বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্ট (বিএলএফ) ও বেলুচ রিপাবলিকান আর্মি (বিআরএ)।

এসব সংগঠন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং চীন–সমর্থিত বিভিন্ন প্রকল্পকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে থাকে। বিশেষ করে গওয়াদর বন্দর ও চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো তাদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য।

পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

জানুয়ারির রক্তাক্ত ৪০ ঘণ্টা

চলতি বছরের ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তানজুড়ে একযোগে ১২টি হামলা চালায় বিএলএ। আত্মঘাতী বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা ও বন্দুকযুদ্ধের পাশাপাশি মাস্তুং জেলার একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগার থেকে প্রায় ৩০ জন বন্দিকে পালাতে সহায়তা করে বিদ্রোহীরা। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে চলা এই লড়াইয়ে অন্তত ২০০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।

জবাবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করে নুশকি শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। যেখানে তিন দিনের লড়াইয়ে সাতজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন।

মে ও জুলাইয়ে ভয়াবহ হামলা

২৪ মে কোয়েটার চমন ফটক এলাকায় নিরাপত্তা কর্মী ও তাদের পরিবার বহনকারী একটি শাটল ট্রেনে গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৪৭ জন নিহত ও ৯৮ জনের বেশি আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে বিএলএ-র মজিদ ব্রিগেড।

জুলাইয়ের শুরুতে পরিস্থিতি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। মাত্র চার দিনে বালুচ যোদ্ধারা অন্তত ৪২ জন পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যা করে। যা সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানের অন্যতম রক্তাক্ত সপ্তাহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জবাবে সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। এতে ১০২ জন বালুচ যোদ্ধা নিহত হয় বলে দাবি করা হয়।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গওয়াদর?

বেলুচ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, প্রদেশের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার লাভবান হলেও স্থানীয় জনগণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঞ্চিত। তারা স্বায়ত্তশাসন কিংবা স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে ইসলামাবাদের দাবি, বেলুচিস্তানে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে এবং পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী বিদেশি সহায়তায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

বেলুচিস্তানের গওয়াদর বন্দরকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চীন সেখানে অবকাঠামো, বন্দর ও জ্বালানি খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাকিস্তান বলছে, এসব প্রকল্প দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

তবে বেলুচ বিদ্রোহীদের অভিযোগ, উন্নয়নের সুফল স্থানীয় জনগণ পাচ্ছে না বরং তাদের ভূমি ও সম্পদের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

বেলুচিস্তান নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত মানবাধিকার ইস্যু হলো ‘গুম’ বা জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ।

বহু বছর ধরে বেলুচ পরিবারগুলো দাবি করে আসছে, ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা বাহিনী আটক করার পর তাঁদের অনেকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তান সরকার অবশ্য বলছে, অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ বলে দাবি করা ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দিয়েছেন বা অন্যত্র চলে গেছেন। সরকার জোর দিয়ে জানায়, আইন অনুযায়ী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মিডিয়া ব্ল্যাকআউট

বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তথাকথিত ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’।

সমালোচকদের দাবি, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে বিদেশি সাংবাদিকদের সেখানে কাজ করা কঠিন। স্থানীয় সাংবাদিকেরাও নানা ধরনের চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকেন। ফলে অনেক ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পৌঁছায় না।

তবে ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’ শব্দটি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কারণ রয়টার্স, এপি, এএফপি, বিবিসি, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিয়মিত না হলেও বেলুচিস্তানের বড় ঘটনাগুলো প্রকাশ করে। তাই অনেক বিশ্লেষকের মতে, তথ্যপ্রবাহ সীমিত হলেও একে সম্পূর্ণ ‘ব্ল্যাকআউট’ বলা যথাযথ নাও হতে পারে।

শেষ বাস্তবতা

বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সহিংসতা কেবল কয়েকটি বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে বিরোধ, জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি গভীর অবিশ্বাস।

সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) আগের তুলনায় আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন হামলায় তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার সক্ষমতারও পরিচয় দিয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে। এখনো পর্যন্ত বিএলএ বেলুচিস্তানের ওপর স্থায়ী প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। একইভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রও গঠন করতে সক্ষম হয়নি। ফলে ‘পাকিস্তান ভেঙে যাচ্ছে’—এ ধরনের সিদ্ধান্ত বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে এটিও স্পষ্ট যে, কেবল সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বেলুচিস্তানের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। গত প্রায় আট দশক ধরে বিদ্রোহ, দমন অভিযান এবং নতুন করে সংঘাতের যে চক্র চলছে, সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই সংকটের আরও তীব্র প্রকাশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচ জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে ন্যায্য অংশীদারত্ব, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। যদিও সামরিকভাবে স্বাধীনতা অর্জনের সক্ষমতা এখনো দেখা যায়নি, তবু দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা বাড়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সব মিলিয়ে বেলুচিস্তান এখনো পাকিস্তানের অংশ এবং সেখানে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতার বিস্তার স্পষ্ট করে যে, এই সংকট আর শুধু আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংহতি, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক চ্যালেঞ্জ।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত