কাজী মাকতাবার পান্থ

‘গ্যারি সোবার্স একাই পাঁচ ক্রিকেটারের কাজ করতে পারতেন।’ কথাটি বলেছেন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান ক্যারিবীয় কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স।
সত্যিকার অর্থেই সোবার্স ছিলেন পরিপূর্ণ ক্রিকেটার। শুধু অলরাউন্ডার নন, তাঁর হাতের ব্যাট থেকে মাঠে দারুণ সব শটের শিল্প ঝরত। বল হাতে নিলে বনে যেতেন ম্যাজিশিয়ান। ফিল্ডিংয়েও বিস্ময় জাগাতেন।
সোবার্সের ২৫৪ রানের ইনিংস দেখে ডন ব্র্যাডম্যান বলেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমি এর চেয়ে ভালো ইনিংস দেখিনি।’ ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার ট্রেভর বেইলির ভাষ্য, ‘সোবার্স সর্বকালের সেরা এবং একজন পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার।’
১৯৩৬ সালের ২৮ জুলাই বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে জন্ম সোবার্সের। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে টেস্ট অভিষেক হয়। শুরুর দিকে দলে জায়গা হয়েছিল বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দ্রুত সবাই বুঝতে থাকেন, তাঁকে কোনো একটি পরিচয়ে আর বেঁধে রাখতে পারেনি ক্রিকেট।
নতুন বলে যেমন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার, তেমনই প্রয়োজনে বনে যেতেন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিন। আবার মুহূর্তেই চাইনাম্যান বা রিস্ট স্পিন করতে পারতেন অনায়াসে। একই হাতে তিন ধরনের বলে ব্যাটাররা বিভ্রান্ত হতেন। সঙ্গে প্লাস পয়েন্ট ছিল অতুলনীয় ব্যাটিং এবং ক্ষিপ্রগতির ফিল্ডিং।
১৯৫৮ সালে কিংস্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সোবার্স ৩৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যা তখন ছিল টেস্ট ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ১৯৬৮ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ম্যালকম ন্যাশকে এক ওভারে টানা ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে আবার ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। টি-টোয়েন্টি বা টি-টেনের বহু যুগ আগেই সোবার্স বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেট কতটা আক্রমণাত্মক হতে পারে।
পরিসংখ্যানও সোবার্সের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষী। ৯৩ টেস্টে ৮ হাজার ৩২ রান, গড় ৫৭ দশমিক ৭৮, ২৬ শতক, সঙ্গে ২৩৫ উইকেট ও ১০৯টি ক্যাচ। কিন্তু এই নিছক পরিসংখ্যান কী তাঁর কীর্তি বা তাঁকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম? উত্তর একদম না। কারণ, সোবার্সকে বোঝার জন্য স্কোরকার্ডের চেয়ে বেশি কল্পনাশক্তি প্রয়োজন। মাঠে তিনি ক্রিকেটকে পুরোপুরি শিল্পে রূপান্তর করতেন।
ষাটের দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রাণ ছিলেন সোবার্স। তাঁর ব্যাটিং কিংবা বোলিং দেখতে টিকিট কেটে মাঠে গেলে, তা উসুল হয়ে যেত। ভিভ রিচার্ডস, ক্লাইভ লয়েড, গর্ডন গ্রিনিজ কিংবা ম্যালকম মার্শালদের টানা দুই বিশ্বজয়ের ভিত্তিও তৈরি হয়েছিল তাঁর হাতেই।
মাঠের সোবার্স জানলাম। কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের জানার প্রয়োজন তাঁর সাহসী সিদ্ধান্ত। ১৯৬৮ সালে ট্রিবিনাথে টেস্ট যখন ড্রয়ের পথে, তখনই তিনি ব্যাটিং ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন। ইংল্যান্ডের সামনে ছুড়ে দেন ২১৫ রানের লক্ষ্য, যা তাদের ১৬৫ মিনিটে করতে হতো। যদিও তা পরে ইংল্যান্ড চেজ করে।
এই ইনিংস ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু সোবার্সের জবাব, ‘সিরিজ এতটাই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল যে, এভাবে ক্রিকেট খেলাকে আমি ক্রিকেটই মনে করিনি।’ তিনি নিরাপদ ড্র নন, বরং বিশ্বাস করতেন ম্যাচের ফলাফলে। সেজন্যই মাঠে ঝুঁকি নিতেন।
২০০০ সালে উইজডেন থেকে শতাব্দীর সেরা পাঁচ সেরা ক্রিকেটার এবং ২০০৯ সালে আইসিসির ‘হল অব ফেমে’ জায়গা করে নিয়েছেন সোবার্স। আধুনিক ক্রিকেট এখনো তাঁর মতো খেলোয়াড় পায়নি। পাওয়ার কথাও নয়। কারণ, সোবার্স ছিলেন ‘একের ভেতর পাঁচ’।

‘গ্যারি সোবার্স একাই পাঁচ ক্রিকেটারের কাজ করতে পারতেন।’ কথাটি বলেছেন সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান ক্যারিবীয় কিংবদন্তি স্যার গ্যারি সোবার্স।
সত্যিকার অর্থেই সোবার্স ছিলেন পরিপূর্ণ ক্রিকেটার। শুধু অলরাউন্ডার নন, তাঁর হাতের ব্যাট থেকে মাঠে দারুণ সব শটের শিল্প ঝরত। বল হাতে নিলে বনে যেতেন ম্যাজিশিয়ান। ফিল্ডিংয়েও বিস্ময় জাগাতেন।
সোবার্সের ২৫৪ রানের ইনিংস দেখে ডন ব্র্যাডম্যান বলেছিলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আমি এর চেয়ে ভালো ইনিংস দেখিনি।’ ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার ট্রেভর বেইলির ভাষ্য, ‘সোবার্স সর্বকালের সেরা এবং একজন পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার।’
১৯৩৬ সালের ২৮ জুলাই বার্বাডোজের ব্রিজটাউনে জন্ম সোবার্সের। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে টেস্ট অভিষেক হয়। শুরুর দিকে দলে জায়গা হয়েছিল বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দ্রুত সবাই বুঝতে থাকেন, তাঁকে কোনো একটি পরিচয়ে আর বেঁধে রাখতে পারেনি ক্রিকেট।
নতুন বলে যেমন ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার, তেমনই প্রয়োজনে বনে যেতেন বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিন। আবার মুহূর্তেই চাইনাম্যান বা রিস্ট স্পিন করতে পারতেন অনায়াসে। একই হাতে তিন ধরনের বলে ব্যাটাররা বিভ্রান্ত হতেন। সঙ্গে প্লাস পয়েন্ট ছিল অতুলনীয় ব্যাটিং এবং ক্ষিপ্রগতির ফিল্ডিং।
১৯৫৮ সালে কিংস্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে সোবার্স ৩৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যা তখন ছিল টেস্ট ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ১৯৬৮ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ম্যালকম ন্যাশকে এক ওভারে টানা ছয় ছক্কা হাঁকিয়ে আবার ইতিহাসে নাম লেখান তিনি। টি-টোয়েন্টি বা টি-টেনের বহু যুগ আগেই সোবার্স বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে ক্রিকেট কতটা আক্রমণাত্মক হতে পারে।
পরিসংখ্যানও সোবার্সের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষী। ৯৩ টেস্টে ৮ হাজার ৩২ রান, গড় ৫৭ দশমিক ৭৮, ২৬ শতক, সঙ্গে ২৩৫ উইকেট ও ১০৯টি ক্যাচ। কিন্তু এই নিছক পরিসংখ্যান কী তাঁর কীর্তি বা তাঁকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে সক্ষম? উত্তর একদম না। কারণ, সোবার্সকে বোঝার জন্য স্কোরকার্ডের চেয়ে বেশি কল্পনাশক্তি প্রয়োজন। মাঠে তিনি ক্রিকেটকে পুরোপুরি শিল্পে রূপান্তর করতেন।
ষাটের দশকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রাণ ছিলেন সোবার্স। তাঁর ব্যাটিং কিংবা বোলিং দেখতে টিকিট কেটে মাঠে গেলে, তা উসুল হয়ে যেত। ভিভ রিচার্ডস, ক্লাইভ লয়েড, গর্ডন গ্রিনিজ কিংবা ম্যালকম মার্শালদের টানা দুই বিশ্বজয়ের ভিত্তিও তৈরি হয়েছিল তাঁর হাতেই।
মাঠের সোবার্স জানলাম। কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের জানার প্রয়োজন তাঁর সাহসী সিদ্ধান্ত। ১৯৬৮ সালে ট্রিবিনাথে টেস্ট যখন ড্রয়ের পথে, তখনই তিনি ব্যাটিং ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন। ইংল্যান্ডের সামনে ছুড়ে দেন ২১৫ রানের লক্ষ্য, যা তাদের ১৬৫ মিনিটে করতে হতো। যদিও তা পরে ইংল্যান্ড চেজ করে।
এই ইনিংস ঘোষণা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু সোবার্সের জবাব, ‘সিরিজ এতটাই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল যে, এভাবে ক্রিকেট খেলাকে আমি ক্রিকেটই মনে করিনি।’ তিনি নিরাপদ ড্র নন, বরং বিশ্বাস করতেন ম্যাচের ফলাফলে। সেজন্যই মাঠে ঝুঁকি নিতেন।
২০০০ সালে উইজডেন থেকে শতাব্দীর সেরা পাঁচ সেরা ক্রিকেটার এবং ২০০৯ সালে আইসিসির ‘হল অব ফেমে’ জায়গা করে নিয়েছেন সোবার্স। আধুনিক ক্রিকেট এখনো তাঁর মতো খেলোয়াড় পায়নি। পাওয়ার কথাও নয়। কারণ, সোবার্স ছিলেন ‘একের ভেতর পাঁচ’।
.png)

দলবদল উইন্ডোর শেষ দিনে চমক দেখাল প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। চেলসি থেকে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফের্নান্দেসকে দলে ভেড়াতে ব্লুজদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে ক্লাবটি।
৮ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ ১২তম আসর ঘিরে দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে সাবেক তিন কর্মকর্তাকে নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযোগের পর তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
১২ ঘণ্টা আগে
নারী এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (৩১ জুলাই) গ্রুপ ‘বি’-এর ম্যাচে টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামেন নারী ক্রিকেটাররা।
১ দিন আগে
ইংলিশ উইঙ্গার বুকায়ো সাকার গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। এ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে টানা দ্বিতীয় জয় পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
১ দিন আগে