স্ট্রিম প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এক মাসের কিছুটা বেশি সময়ের মধ্যে সেই আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে।
আন্দোলনটি শুরু থেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে পরিচালিত হয়নি। তবে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিও শুরুতে নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়ে পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সরাসরি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
দলটির নেতারা বলছেন, শুরুতে আন্দোলনের নেতৃত্ব পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের হাতে থাকায় বিএনপি সংহতি জানিয়েছিল। পরে আন্দোলন বিস্তৃত হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
৬ জুলাই প্রথম আনুষ্ঠানিক সমর্থন
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি প্রথম আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় বিএনপি ২০২৪ সালের ৬ জুলাই। সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তাই সাধারণ ছাত্র সমাজের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলোর সঙ্গে বিএনপি একমত। আশা করি, সময় থাকতে সরকার ছাত্র সমাজের ন্যায়সংগত যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেবে।’
সরকারের অভিযোগ ও বিএনপির অস্বীকার
আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর ১৭ জুলাই তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, বিএনপি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সশস্ত্র ক্যাডার নামিয়েছে। একই দিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদও অভিযোগ করেন যে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনকারীদের ভেতর ঢুকে পড়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।
তবে ওই দিনই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নই। আমরা তাঁদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছি এবং সেই সমর্থন আমরা দিয়েই যাব।’ এই নিয়ে গতকাল বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মহাসচিব কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। সে সময় প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়া হয়নি কেন—তেমন প্রশ্ন তোলাকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভাজন তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে একটা সমস্যা আছে, ছাত্ররা অনেক সময় ওউন করতে চায় না অন্য দলকে এবং সমর্থন দিলে এমন একটা কথা বলে দেয় যে তাঁদের সমর্থন আমাদের দরকার নেই। এই সব কারণে সরাসরি সমর্থনের চেয়ে আমরা মাঠেই বেশি সক্রিয় ছিলাম।’ ছাত্র আন্দোলনে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের সঙ্গে বিএনপির এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংযোগ সব সময় ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সে সময় ঢাকা থেকে বিএনপির সাড়ে তিন হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনকে বিএনপি ‘ওউন’ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘জাতীয় ঐক্যের’ আহ্বান
আন্দোলনের শেষ দিকে ২৬ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেন।
৪২২ নিহত ও ৯ হাজার গ্রেপ্তারের দাবি
বিএনপির দাবি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের ৪২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ প্রায় ৯ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন। ৫ আগস্টের পর ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নিহতের সংখ্যা তুলে ধরেন। এর আগে ওই বছরের ২৮ জুলাই এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছিলেন যে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির ৯ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘আমরা না থাকলে ১৯ জুলাই গ্রেপ্তার হলাম কীভাবে’
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা যদি এই আন্দোলনে না-ই থাকতাম, তাহলে ১৯ জুলাই কীভাবে গ্রেপ্তার হলাম? তার আগেই ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর প্রতি বিএনপি সংহতি জানিয়েছিল। মানুষ দেখেছে কীভাবে জুলাই আন্দোলনে বিএনপির অংশগ্রহণ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু জুলাই-আগস্টের কয়েক দিনের দল নয়, গত ১৭ বছর ধরে নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে এসেছে।
মাস্টারমাইন্ড বিতর্ক
জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বক্তব্যে মাহফুজ আলমের নাম ইঙ্গিত করেছিলেন। অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেন, আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন তারেক রহমান। তবে তারেক রহমান নিজেকে মাস্টারমাইন্ড মনে করেন না; বরং এটি ছিল গণতন্ত্রপন্থী মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন।
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকার
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। যদিও বিএনপি মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকার ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বিএনপি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তী সরকার কতুটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারা যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। একটি সরকার তো নির্ভুলভাবে সবকিছু করতে পারে না। কোথাও না কোথাও কিছু ফাঁক বা ত্রুটি থাকতেই পারে। সেটাকে আমি তেমন বড় কিছু মনে করি না। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। যদি কোনও ফাঁকফোকর বা ক্রটি থেকে থাকে, সেগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার পূরণ করবে।’
জুলাই আন্দোলনের বড় অর্জন ভোটাধিকার আদায় হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের যে বড় দাবি তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি— বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। সরকার গঠনের তো মাত্র চার মাস হয়েছে। রাতারাতি কি সবকিছু করা সম্ভব? এগুলো রাষ্ট্র ও সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। সংবিধানে পরিবর্তন আনতে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকা বা ভারতের সংবিধান স্বাধীনতার শুরুতে যেমন ছিল, আজও কি ঠিক তেমন আছে? সময়ের সঙ্গে অনেক সংশোধন হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ক্ষেত্রেও সেটাই হবে। জুলাই আন্দোলনে যে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ছিল এবং যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। যেগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেগুলো সংবিধানে যাবে। আর যেগুলো সাধারণ আইনের মাধ্যমে করা সম্ভব, সেগুলো আইন আকারে করা হবে। সব বিষয়ই তো সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়।’
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তার মতে, অনির্বাচিত সরকারের কারণেই জনগণকে ওই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, এটি সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের রাষ্ট্র গঠন, উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থ পাচার রোধ- এসবই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল।
নাসির বলেন, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি নির্বাচিত সরকারের ধীরে ধীরে কাজ করতে পারে। বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে কাজ করে যাচ্ছে। অগ্রগতি অর্জন করবে। অভ্যুত্থানের স্পিডকে ধারণ করে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে।
ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দাবি
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা সরাসরি রাজপথে খুব বেশি সক্রিয় না থাকলেও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই আন্দোলনে অংশ নেন বলে সংগঠনগুলোর দাবি। তাদের ভাষ্য, আন্দোলনের প্রথম দিকে অপেক্ষাকৃত নবীন ও কম পরিচিত নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ সারা দেশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে যুক্ত হন। সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও তারা সম্পৃক্ত ছিলেন।
অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে তাদের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ছাত্রদলের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংগঠনটির ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির আরও বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে ছাত্রদল এতে সম্পৃক্ত হয়। প্রথমদিকে সংগঠনের অপেক্ষাকৃত নবীন ও কম পরিচিত নেতাকর্মীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে আন্দোলনের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ সারা দেশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে যুক্ত হন।
তার ভাষ্য, হাইকোর্টের রায়ের পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদলের যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর ২ জুলাই থেকে সংগঠনটি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। প্রথমে অপেক্ষাকৃত নবীন নেতাকর্মীদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ শুরু হলেও ৫ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরও বাড়ে। ৮ জুলাই নয়াপল্টনে ছাত্রদল মিছিল করে এবং ১১ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনে প্রকাশ্যে থাকার ঘোষণা দেয়।
নাসির বলেন, ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে ছাত্রদলের অংশগ্রহণ আরও জোরালো হয়। তার দাবি, এরপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নেতৃত্ব দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরামের পাশাপাশি মাগুরা জেলা ছাত্রদলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাও ছিলেন। তার মতে, আন্দোলনে সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
নাসির বলেন, তিনি নিজেও ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সভাপতি যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন এবং কারফিউ চলাকালেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়েও ছাত্রদল কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এ.এ. জহির উদ্দিন তুহিন দাবি করেন, বিএনপি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক দল জুলাই আন্দোলনে নিয়মিত রাজপথে অবস্থান করে প্রতিটা কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিএনপি একাত্মতা প্রকাশ করে, সেই মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিয়ে। ১৮ জুলাই কম্পলিট শাটডাউন কর্মসূচিতে শনির আখড়া, কাজলা, দনিয়া— পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টন, পল্টন কালভার্ট রোড, রাজারবাগ শান্তিনগর, নয়াপল্টন দলীয় অফিস পুরো এলাকায় সারাদিন পুলিশ-বিডিআরের সঙ্গে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেয় স্বেচ্ছাসেবক দল।
২ আগস্ট এক দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশগ্রহণ, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও শাহবাগ দুই জায়গায় ভাগ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করে। অসংখ্য নেতাকর্মী দিনব্যাপী রাজপথে থেকে কর্মসূচি সফল করে এবং সবার আগে যাত্রাবাড়ী এলাকা মুক্ত করে।
৫ আগস্ট সকাল থেকে শহীদ মিনার জড়ো হবার কথা থাকলে পুলিশের নির্বিচার গুলির মুখে ঢাকা মেডিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয় এবং লড়াই করে হাসিনা মুক্ত নতুন বাংলাদেশ জন্ম দেয়। জুলাই আন্দোলন সময় সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এক মাসের কিছুটা বেশি সময়ের মধ্যে সেই আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে।
আন্দোলনটি শুরু থেকেই কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে পরিচালিত হয়নি। তবে সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপিও শুরুতে নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়ে পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সরাসরি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
দলটির নেতারা বলছেন, শুরুতে আন্দোলনের নেতৃত্ব পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের হাতে থাকায় বিএনপি সংহতি জানিয়েছিল। পরে আন্দোলন বিস্তৃত হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
৬ জুলাই প্রথম আনুষ্ঠানিক সমর্থন
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি প্রথম আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় বিএনপি ২০২৪ সালের ৬ জুলাই। সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তাই সাধারণ ছাত্র সমাজের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলোর সঙ্গে বিএনপি একমত। আশা করি, সময় থাকতে সরকার ছাত্র সমাজের ন্যায়সংগত যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেবে।’
সরকারের অভিযোগ ও বিএনপির অস্বীকার
আন্দোলন তীব্র হওয়ার পর ১৭ জুলাই তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, বিএনপি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে সশস্ত্র ক্যাডার নামিয়েছে। একই দিন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদও অভিযোগ করেন যে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আন্দোলনকারীদের ভেতর ঢুকে পড়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।
তবে ওই দিনই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নই। আমরা তাঁদের নৈতিক সমর্থন দিয়েছি এবং সেই সমর্থন আমরা দিয়েই যাব।’ এই নিয়ে গতকাল বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির মহাসচিব কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। সে সময় প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়া হয়নি কেন—তেমন প্রশ্ন তোলাকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভাজন তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে একটা সমস্যা আছে, ছাত্ররা অনেক সময় ওউন করতে চায় না অন্য দলকে এবং সমর্থন দিলে এমন একটা কথা বলে দেয় যে তাঁদের সমর্থন আমাদের দরকার নেই। এই সব কারণে সরাসরি সমর্থনের চেয়ে আমরা মাঠেই বেশি সক্রিয় ছিলাম।’ ছাত্র আন্দোলনে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের সঙ্গে বিএনপির এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংযোগ সব সময় ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সে সময় ঢাকা থেকে বিএনপির সাড়ে তিন হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সেই আন্দোলনকে বিএনপি ‘ওউন’ করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘জাতীয় ঐক্যের’ আহ্বান
আন্দোলনের শেষ দিকে ২৬ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেন।
৪২২ নিহত ও ৯ হাজার গ্রেপ্তারের দাবি
বিএনপির দাবি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের ৪২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ প্রায় ৯ হাজার নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন। ৫ আগস্টের পর ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নিহতের সংখ্যা তুলে ধরেন। এর আগে ওই বছরের ২৮ জুলাই এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেছিলেন যে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির ৯ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘আমরা না থাকলে ১৯ জুলাই গ্রেপ্তার হলাম কীভাবে’
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা যদি এই আন্দোলনে না-ই থাকতাম, তাহলে ১৯ জুলাই কীভাবে গ্রেপ্তার হলাম? তার আগেই ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর প্রতি বিএনপি সংহতি জানিয়েছিল। মানুষ দেখেছে কীভাবে জুলাই আন্দোলনে বিএনপির অংশগ্রহণ করেছে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি শুধু জুলাই-আগস্টের কয়েক দিনের দল নয়, গত ১৭ বছর ধরে নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে এসেছে।
মাস্টারমাইন্ড বিতর্ক
জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে—এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বক্তব্যে মাহফুজ আলমের নাম ইঙ্গিত করেছিলেন। অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দাবি করেন, আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন তারেক রহমান। তবে তারেক রহমান নিজেকে মাস্টারমাইন্ড মনে করেন না; বরং এটি ছিল গণতন্ত্রপন্থী মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন।
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে অঙ্গীকার
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কার। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। যদিও বিএনপি মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকার ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বিএনপি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অন্তর্বর্তী সরকার কতুটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারা যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। একটি সরকার তো নির্ভুলভাবে সবকিছু করতে পারে না। কোথাও না কোথাও কিছু ফাঁক বা ত্রুটি থাকতেই পারে। সেটাকে আমি তেমন বড় কিছু মনে করি না। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। যদি কোনও ফাঁকফোকর বা ক্রটি থেকে থাকে, সেগুলো বর্তমান বিএনপি সরকার পূরণ করবে।’
জুলাই আন্দোলনের বড় অর্জন ভোটাধিকার আদায় হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের যে বড় দাবি তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি— বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেগুলো অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। সরকার গঠনের তো মাত্র চার মাস হয়েছে। রাতারাতি কি সবকিছু করা সম্ভব? এগুলো রাষ্ট্র ও সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। সংবিধানে পরিবর্তন আনতে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকা বা ভারতের সংবিধান স্বাধীনতার শুরুতে যেমন ছিল, আজও কি ঠিক তেমন আছে? সময়ের সঙ্গে অনেক সংশোধন হয়েছে। আমাদের সংবিধানের ক্ষেত্রেও সেটাই হবে। জুলাই আন্দোলনে যে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ছিল এবং যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। যেগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেগুলো সংবিধানে যাবে। আর যেগুলো সাধারণ আইনের মাধ্যমে করা সম্ভব, সেগুলো আইন আকারে করা হবে। সব বিষয়ই তো সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়।’
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তার মতে, অনির্বাচিত সরকারের কারণেই জনগণকে ওই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, এটি সম্ভব হয়েছে। এর বাইরে মানবিক মর্যাদা ও সাম্যের রাষ্ট্র গঠন, উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থ পাচার রোধ- এসবই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল।
নাসির বলেন, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি নির্বাচিত সরকারের ধীরে ধীরে কাজ করতে পারে। বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে কাজ করে যাচ্ছে। অগ্রগতি অর্জন করবে। অভ্যুত্থানের স্পিডকে ধারণ করে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে।
ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দাবি
জুলাই আন্দোলনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা সরাসরি রাজপথে খুব বেশি সক্রিয় না থাকলেও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই আন্দোলনে অংশ নেন বলে সংগঠনগুলোর দাবি। তাদের ভাষ্য, আন্দোলনের প্রথম দিকে অপেক্ষাকৃত নবীন ও কম পরিচিত নেতাকর্মীদের কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ সারা দেশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে যুক্ত হন। সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও তারা সম্পৃক্ত ছিলেন।
অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে তাদের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ছাত্রদলের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংগঠনটির ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির আরও বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে ছাত্রদল এতে সম্পৃক্ত হয়। প্রথমদিকে সংগঠনের অপেক্ষাকৃত নবীন ও কম পরিচিত নেতাকর্মীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। পরে আন্দোলনের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বসহ সারা দেশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে যুক্ত হন।
তার ভাষ্য, হাইকোর্টের রায়ের পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রদলের যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর ২ জুলাই থেকে সংগঠনটি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়। প্রথমে অপেক্ষাকৃত নবীন নেতাকর্মীদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ শুরু হলেও ৫ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পৃক্ততা আরও বাড়ে। ৮ জুলাই নয়াপল্টনে ছাত্রদল মিছিল করে এবং ১১ জুলাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনে প্রকাশ্যে থাকার ঘোষণা দেয়।
নাসির বলেন, ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম নিহত হওয়ার পর আন্দোলনে ছাত্রদলের অংশগ্রহণ আরও জোরালো হয়। তার দাবি, এরপর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা, মহানগর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন এবং নিজ নিজ এলাকায় নেতৃত্ব দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরামের পাশাপাশি মাগুরা জেলা ছাত্রদলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাও ছিলেন। তার মতে, আন্দোলনে সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
নাসির বলেন, তিনি নিজেও ১৯ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সভাপতি যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন এবং কারফিউ চলাকালেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী বিষয়েও ছাত্রদল কাজ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এ.এ. জহির উদ্দিন তুহিন দাবি করেন, বিএনপি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক দল জুলাই আন্দোলনে নিয়মিত রাজপথে অবস্থান করে প্রতিটা কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বিএনপি একাত্মতা প্রকাশ করে, সেই মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিয়ে। ১৮ জুলাই কম্পলিট শাটডাউন কর্মসূচিতে শনির আখড়া, কাজলা, দনিয়া— পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টন, পল্টন কালভার্ট রোড, রাজারবাগ শান্তিনগর, নয়াপল্টন দলীয় অফিস পুরো এলাকায় সারাদিন পুলিশ-বিডিআরের সঙ্গে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেয় স্বেচ্ছাসেবক দল।
২ আগস্ট এক দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত পদযাত্রায় অংশগ্রহণ, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও শাহবাগ দুই জায়গায় ভাগ হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করে। অসংখ্য নেতাকর্মী দিনব্যাপী রাজপথে থেকে কর্মসূচি সফল করে এবং সবার আগে যাত্রাবাড়ী এলাকা মুক্ত করে।
৫ আগস্ট সকাল থেকে শহীদ মিনার জড়ো হবার কথা থাকলে পুলিশের নির্বিচার গুলির মুখে ঢাকা মেডিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয় এবং লড়াই করে হাসিনা মুক্ত নতুন বাংলাদেশ জন্ম দেয়। জুলাই আন্দোলন সময় সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
.png)

চলতি বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দল থেকে অবসর নেবেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৃহস্পতিবার কানাডার টরোন্টোতে পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার শেষ বত্রিশের বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে এই তথ্য দিয়েছেন তাঁর বোন কাতিয়া আভেইরো।
১৭ মিনিট আগে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা ও ভারী অস্ত্রের গোলাগুলিতে টেকনাফ সীমান্ত এলাকা আবারও প্রকম্পিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকট সব বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
১০ ঘণ্টা আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী ও তাঁর সহযোগী আটক হয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের অর্থদণ্ড দিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
১১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সাবেক সমন্বয়ক আবু তৌহিদ মো. সিয়ামকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
১১ ঘণ্টা আগে