অর্থবিল পাস

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ, ব্যাংক হিসাবে লাগবে না টিআইএন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ২১: ১৩
সংসদ অধিবেশন। ছবি: সংগৃহীত

করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধিসহ কয়েকটি সংশোধনী নিয়ে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কয়েকটি সংশোধনী এনে বিল উত্থাপন করেন। কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ এবং বণ্টন দলিল ও নামজারি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বাতিল হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার এবং পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ব্যবসা, কৃষি ও বেতনভিত্তিক আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

চিংড়ি খাতকে সহায়তা দিতে আমদানিকৃত চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া দেশীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত মধুর ওপর থেকে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শিল্পে ব্যবহৃত পিভিসি ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল পণ্যের কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল তৈরিতে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হয়েছে।

আমদানিকৃত ফায়ার ব্রিকের ওপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম কর বাতিল এবং অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এলইডি বাতি ও প্রাক-প্রস্তুতকৃত (প্রিফ্যাব্রিকেটেড) ভবনের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন ও অনলাইন বাজারে বিজ্ঞাপন প্রচারে বিদ্যমান ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব হয়েছে।

এছাড়া সোনা, প্ল্যাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিটিআরসির রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং সব ধরনের মাছ সরবরাহে পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যবসায়ীদের কর প্রদান সহজ করতে নির্বাচিত কিছু খাতে ভ্যাট কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত