বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার মৃত্যু, নেপথ্যে ‘ডিপ্রেশন’

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ২২: ২৬
তানভীর হোসাইন শুভ। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মুগদায় একটি বাসা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তানভীর হোসাইন শুভর (৪৫) অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ দিনের মানসিক অবসাদ (ডিপ্রেশন) থেকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে মুগদা এলাকার বাসা থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত তানভীর হোসাইন শুভ তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো ছিলেন। তিনি মুগদার ওই বাসায় একা থাকতেন।

বাড়ির মালিক ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহার দিন শেষবারের মতো তানভীর হোসাইনকে দেখেছিলেন বাড়ির লোকজন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার তাঁর ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাড়ির বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জাহিদ হাসান জানান, প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, নিহতের মরদেহটিতে সম্পূর্ণ পচন ধরেছিল। তাঁর দুই চোখ গলিত অবস্থায় বের হয়ে ছিল, জিহ্বা ছিল অর্ধেক বাড়ানো এবং মুখ, কান ও নাক পচে পোকা ধরে গিয়েছিল। গলায় একটি লাল-হলুদ রঙের গামছা পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত ছিলেন তিনি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিনের মানসিক অবসাদ ও ডিপ্রেশন থেকে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

নিহতের ছোট ভাই শৈবাল জানান, ২০১২ সালে তানভীর হোসাইন শুভ বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১৩ বছরে তিনি আর বিয়ে করেননি। শৈবাল বলেন, 'ঈদের আগের দিন আমি সিলেটে ছিলাম, তখন ভাই স্বাভাবিকভাবেই ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। কথা কম বললেও তখন মনে হয়নি তিনি কোনো চিন্তায় আছেন। ভাই মুগদার বাসায় একাই থাকতেন। ঈদেও বাড়ি যেতেন না, ঢাকায় একা একা ঈদ করতেন। কিন্তু কী কারণে কেন তিনি এমন করলেন, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।'

নিহতের বাবা তবারক হোসেন জানান, তাঁরা সেগুনবাগিচা এলাকায় থাকেন। ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা একটু কম হতো। তবে ঈদের দিনও ছেলের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা হয়েছিল। তানভীরের বন্ধু আজাদ জানান, বিয়ের পর বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় শুভ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি একা থাকতে পছন্দ করতেন এবং কথা খুব কম বলতেন।

মুগদা থানার এসআই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে কেন এবং কী কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, সে বিষয়ে নিখুঁত তথ্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্পর্কিত