ফাতাহ কমব্যাটের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সংগৃহীত ছবি

খুলনাভিত্তিক ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আজ রোববার (৫ জুলাই) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবির নিজেও।

পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে পালানোর চেষ্টাকালে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া বালুর মাঠ (মিনি কক্সবাজার) এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী স্ট্রিমকে জানান, আজ রোববার আনুমানিক সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন মিনি কক্সবাজার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের বালুর মাঠ থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন ফাতাহ কমবেট সিস্টেমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ফাতাহর ঢাকা ও খুলনা শাখা এবং শাহ আমানত সাবিরের ভাই রাহিদের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। যশোর শাখায় যোগাযোগ করলে বলা হয়, গ্রেপ্তারের খবর ছাড়া এ ব্যাপারে তার বিশেষ কিছু জানা নেই।

এফসিএসর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবির। সংগৃহীত ছবি
এফসিএসর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবির। সংগৃহীত ছবি

অন্যদিকে যশোরের সিদ্ধিপাশা শাখার দায়িত্বশীল আবদুল্লাহ আল মামুন স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, ফাতাহ কমবেট সিস্টেমের সঙ্গে উগ্রবাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, শাহ আমানত সাবির শনিবার ভোরের আগে রমনা পার্কে যান প্রশিক্ষণ দিতে। সেখানে গিয়ে আগে থেকে থাকা রমনা থানার দুই গাড়ি পুলিশকে পান। পুলিশ ফাতাহ থেকে আসার কথা জানতে পেরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাধা দেয়। পরে সেখান থেকে তিনি বায়তুল মোকাররমে চলে যান। প্রশিক্ষণ নিতে আসাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কোনাপাড়া বালুর মাঠে চলে যান। ওখানে সেদিন ট্রেনিং হয়। সেখানে প্রায় ১৮ জনের মতো সাথী ছিলেন।

আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, ওই দিন সন্ধ্যার দিকে শাহ আমানত সাবির বিবৃতিতে জানান, আগামীকালও (আজ রোববার) ওখানে ট্রেনিং হবে। আজ ভোরে ভাই যাওয়ার আগেই প্রশিক্ষণার্থীদের দুজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার জন্য খুলনা থেকে যাওয়া ভাইসহ আরেকজন যাত্রাবাড়ী থানায় যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত জানতে পারি আরও দুজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শাহ আমানত সাবিরের আটকের খবর দিয়ে ফাতাহর ফেসবুক পেজ থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। তাদের মুক্তির জন্য আওয়াজ তোলার আহ্বান জানানো হয় পোস্টে। একই সময়ে ওই পোস্টের কমেন্টবক্সে পেজ থেকে লেখা হয়, ‘সকল আল কায়েদা, আইএসপন্থী ভায়েরা থানায় চলে আসেন’।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফাতাহ কমবেটের ফেসবুক পেজের এডমিন আবদুল্লাহ আল মামুন স্ট্রিমকে বলেন, ‘ওই মন্তব্যটি আমাদের কোনো এডমিন করেননি। কিছু সময় পরে মন্তব্যটি পাওয়াও যায়নি।’ এডমিন প্যানেলের পক্ষে মন্তব্যটি কে করেছেন জানা সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এডমিনদের কেউ জানেন না মন্তব্যটি ঠিক কে করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আহসান উল্লাহ সামি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ফাতাহ কমবেট সিস্টেমের (এফসিএস) ছয়জন হলেন শাহ আমানত সাবির (২৩), মো. হোসাইন তানিম (২০), মো. জুনায়েদ (২২), আতাউল্লাহ শাহ (৩২), মো. আবিদুর রহমান (২০), ও মো. বায়োজিত (৩০)।

ফাতাহ কমবেটের ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট।
ফাতাহ কমবেটের ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের (এসএজি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্ট্রিমকে জানান, গ্রেপ্তাররা সিটিটিসির হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যৌথভাবে আগামীকাল (সোমবার) থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে।

এর আগে আল জাজিরার অনুসন্ধানী টিমের চুক্তিভিত্তিক সদস্য সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, শাহ আমানত সাবির ও ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) বিস্তৃত নেটওয়ার্কে উগ্রপন্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আফগানফেরত উগ্রপন্থিদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। বসিলাতে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থে আবাসন প্রকল্পের আড়ালে তারা তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জন্য সদস্য তৈরি এবং টিটিপির আদলে, তেহরিকে তালিবান বাংলাদেশ (টিটিবি) গঠনের চেষ্টা করছেন।

সায়েরের পোস্টের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করে উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম। ওই সময় শাহ আমানত সাবির দাবি করেন, তারা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে এবং মিউজিক সহকারে ও মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের প্রথাগত রীতি বর্জন করে মার্শাল আর্ট পরিচালনা করে থাকেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত