গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নারী পুলিশের প্রধানসহ নিহত ১০

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৪৮
হামলার পর বিধস্ত গাজা সিটির পুলিশ হেডকোয়ার্টার। ছবি: সংগৃহীত
হামলার পর বিধস্ত গাজা সিটির পুলিশ হেডকোয়ার্টার। ছবি: সংগৃহীত

গাজা সিটির পুলিশ হেডকোয়ার্টারে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় গাজার নারী পুলিশ প্রধান কর্নেল ফাতিনা আল-সাহহারসহ অন্তত ৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একই দিন নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে আরেকটি হামলায় প্রাণ গেছে আরও এক ফিলিস্তিনির।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

গাজা সিটির কেন্দ্রীয় অংশের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টারটি অবস্থিত। হামলার সময় স্থাপনাটির আশপাশে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল। কাছের একটি পার্কে খেলছিল শিশুরা।

এদিকে নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের কেন্দ্রীয় অংশে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে হামলাকে ‘বর্বর গণহত্যা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের ইসরায়েলের ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ ও পুলিশের ওপর হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরী আহ্বান জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, গাজায় বিশৃঙ্খলা ছড়াতে উপত্যকাটির পুলিশ বাহিনীকে ভেঙে দিতে চাইছে ইসরায়েল। হামলার পক্ষে ইসরায়েলের দেওয়া যুক্তিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তারা।

গাজা সিটির পুলিশ হেডকোয়ার্টারে হামলার নিন্দা জানিয়েছে হামাসও। এই হামলাকে ‘নতুন যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়েছে সংগঠনটি। হামলায় ‘প্রতিরোধের নেতাদের’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল- ইসরায়েলের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।

হামাসের দাবি, বেসামরিক পুলিশ ও নিরস্ত্র মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা আড়াল করতে ইসরায়েল এমন অভিযোগ তুলছে। মধ্যস্থতাকারী ও চুক্তির গ্যারান্টার দেশগুলোর প্রতি, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি, ইসরায়েলের হামলা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা সিটির তুফাহ এলাকা ও নুসেইরাতের মধ্যাঞ্চলে তারা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামাসের যোদ্ধা ও কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।

‘গণপিপাসার’ ঝুঁকিতে ২০ লাখ ফিলিস্তিনি

এদিকে, গাজার পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে বলে সতর্ক করেছেন গাজা পৌরসভা ইউনিয়নের উপপ্রধান আলা আল-দীন আল-বাত্তা। তিনি বলেন, তীব্র পানি সংকটে উপত্যকার ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি ‘গণপিপাসার’ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইসরায়েলি বিধিনিষেধে জ্বালানি ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ৭০০টি জেনারেটরের মধ্যে মাত্র ৪০টি সচল রাখার মতো লুব্রিকেন্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গত মার্চ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর যন্ত্র চালানোর জন্য পৌরসভাগুলো কোনো ডিজেল পায়নি বলেও জানান গাজা পৌরসভা ইউনিয়নের উপপ্রধান। এমতাবস্থায় শিগ্‌গিরই রাস্তাঘাট ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে পানির তীব্র সংকট তৈরির আশঙ্কা করছেন তারা।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নারী পুলিশের প্রধানসহ নিহত ১০