বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মির্জা ফখরুল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা

সংসদীয় দলের সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বাসস
সংসদীয় দলের সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বাসস

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান ফখরুল। একই আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি দলের সভাকক্ষে দুপুরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের ধারণা দেন।

মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট চেয়ে চীফ হুইপ জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে এবং মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নিলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।

সংসদীয় দলের সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস
সংসদীয় দলের সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস

এরপর বক্তব্য দিতে উঠে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর কোনো ভুল হয়ে থাকলে বা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তা রক্ষা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না বলেও জানান বিএনপির সদ্য সাবেক এই মহাসচিব।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে সবার কাছে দোয়া চান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার-পাঁচবার কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অনেক মূল্য দিয়ে বিএনপি বর্তমান অবস্থানে এসেছে। দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য— এ বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে মির্জা ফখরুল সাহসিকতার সঙ্গে দলের হাল ধরে রেখেছেন। এ সময় তাঁকে কারাবন্দীও হতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। কোনোভাবেই এ দূরত্ব বাড়তে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় প্রতীক ছাড়া এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় চ্যালেঞ্জিং হবে। তিনি বলেন, কেউ যাতে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে না যান, সে বিষয়ে এখন থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাঁদের বিজয়ী করতে হবে।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মির্জা ফখরুল