leadT1ad

সরকারের অগ্রাধিকারে অর্থনীতি পুনর্গঠন: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৭: ১৬
সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংগৃহীত ছবি

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও ব্যয় সংকোচন নীতি বাস্তবায়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে এই কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ কাঠামোর দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি জানান, সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এ খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ডের’ আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও বাড়ানো হয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সম্পূরক বাজেটে ব্যয় এবং ঘাটতির কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচন-পূর্ববর্তী বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে যায়। তাই সংশোধিত বাজেটে মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার বিবেচনা করে বাজেট পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজেট পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সংশোধিত বাজেটে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসমূহকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যার পরিমাণ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যার পরিমাণ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবিত মঞ্জুরি দাবিগুলো অনুমোদনের আহ্বান জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Ad 300x250

সম্পর্কিত