সাতক্ষীরায় হৃদ্‌রোগে আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা শহরে মারা যাওয়া লাল্টু হোসেন ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক। সংগৃহীত ছবি
সাতক্ষীরা শহরে মারা যাওয়া লাল্টু হোসেন ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক। সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারে সাতক্ষীরায় হাফিজুর রহমান ওরফে লাল্টু হোসেন (৩৫) নামে এক সমর্থক হৃদ্‌রোগ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে সদর উপজেলার রসুলপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

হাফিজুর রহমান সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার মোটরসাইকেল মেকানিক ফজলু হোসেনের ছেলে। দুই ভাইবোনের মধ্যে লাল্টু বড় ছিলেন। তাঁর দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) শহরের কদমতলা এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দেখেন লাল্টু। ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে কদমতলা এলাকায় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেন। সেখানে লাল্টুসহ সবাই প্রীতিভোজের অংশ নেয়।

হাফিজুর রহমান লালটু নিকট আত্মীয় জাকির হোসেন জানান, লাল্টু আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর ভোরের দিকে বাড়ি ফিরে যান লাল্টু। বাড়ি ফিরে তিনি হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করেন। বাড়ির সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে লাল্টুকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মীর মাহফুজ আলম বলেন, ভোরের লাল্টু হোসেনকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। তিনি হার্ট অ্যাটাকে (হৃদ্‌রোগ) মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

লাল্টুর প্রতিবেশী রবি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে খেলা দেখছিলাম। আর্জেন্টিনা গোল খাওয়ার পর লাল্টুকে খুব ভেঙে পড়তে দেখি। এমনকি তাকে কান্না করতেও দেখেছি। পরে কখন তিনি বাড়ি চলে গেছে, বুঝতে পারিনি। কিছুক্ষণ পর শুনি সে মারা গেছে।’

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, শহরে রসুলপুর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি আসার পরে হৃদ্‌রোগে একজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একজন সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন তাকে জানিয়েছেন।

এদিকে সোমবার জোহরের নামাজের পর রসুলপুর পশ্চিমপাড়া আহলে হাদিস সাবেরী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত