জাবিতে সুপারিশ ছাড়া পদোন্নতি, আটকে গেল আপত্তিতে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে এক কর্মচারীর নাম রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় ডেপুটি রেজিস্ট্রার আলেয়া ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

জাবির রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিটির সভা হয়। সভায় যোগ্যতার ভিত্তিতে ৯ কর্মচারীকে আপগ্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ৫ প্রার্থীকে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সুপারিশ না পাওয়া কম্পট্রোলার শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী সুফিয়া সুলতানার নাম সুপারিশপ্রাপ্তদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের সূত্রের দাবি, সুফিয়া সুলতানার নাম সংবলিত রেজুলেশনে প্রথমে উপ-উপাচার্য ও পদোন্নতি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন।

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-২) আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘স্যার যে রেজুলেশন নিয়ে আসতে বলেন, আমি দিতে পারি। আমার কী এত দুঃসাহস আছে যে নিজে কোনো রেজুলেশন নিয়ে যাব?’

আলেয়া ফেরদৌসী আরও বলেন, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এগুলো পরিবর্তন হয় না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বোর্ডের সব সদস্যের সিগনেচার থাকে।’ তাঁর দাবি, তিনি নিজে রেজুলেশন লেখেন না, কেবল কার্যবিবরণী প্রস্তুত করেন।

এ বিষয়ে কম্পট্রোলার শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী সুফিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি শুধু ভাইভা দিয়েছিলাম।’

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এরপর রেজুলেশন স্বাক্ষরের জন্য কমিটির সদস্যদের কাছে যায়। কমিটির সদস্য ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান অসংগতি দেখতে পেয়ে স্বাক্ষর না করে ফেরত পাঠান।

অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কোনোভাবে উপ-উপাচার্য এটাতে সই করেছেন। পরে আমি বলেছি, এটা সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই ফেরত পাঠিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আলেয়াকে বলেছি, “এটা তো সুপারিশ করা হয়নি, তার পরেও এটা কেন এলো?” তিনি আমাকে কিছু বলতে পারেননি। এরপর তা ঠিক করে আনতে বলি।’

পরে সুফিয়া সুলতানার নাম বাদ দিয়ে নতুন রেজুলেশন আনা হলে অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান সেখানে স্বাক্ষর করেন।

রেজুলেশনের বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সবাই মিলে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটাই চূড়ান্ত। সিদ্ধান্তের আগে এদিক-সেদিক হতেই পারে।’

আলেয়া ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আমরা খসড়া কী করলাম, সেগুলো দেখার বা সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত