স্ট্রিম সম্পাদকীয়
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিতর্কিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবকে নতুন নাম ও কাঠামোয় পুনর্গঠন। এর আগে বাহিনীটির নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—আইনশৃঙ্খলার সংকটে ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে যে অনাস্থা বিরাজমান; একটি বিতর্কিত বাহিনীর নাম বদল তাতে কতটা প্রভাব রাখবে?
নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। বাস্তবতা হলো, নির্বাচন-পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার রেশ কাটতে এখনো সময় লাগছে। ব্যবসায়ীদের পর্যবেক্ষণ, নতুন মূলধনী বিনিয়োগে স্থবিরতার পেছনে অন্তত পাঁচটি কারণ রয়েছে—রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা এমন একটি বিষয়, যা কেবল বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করে না—বরং দেশি উদ্যোক্তাদের আস্থাহীনতার মধ্য দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করে।
চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ অনিবার্যভাবেই আসে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমে আসছে—পরিবহন থেকে পাইকারি বাজার, নির্মাণ খাত, এমনকি শিল্প-কারখানা পর্যন্ত এর প্রভাব বিস্তৃত। একজন ব্যবসায়ীর জন্য চাঁদাবাজি কেবল অতিরিক্ত ব্যয় নয়—এটি অনিশ্চিত, অননুমেয় ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর, যা তার পরিকল্পনাকে অস্বচ্ছ করে তোলে এবং প্রান্তিক মুনাফার ব্যবসাগুলোকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। পণ্যের দাম বেড়ে ওঠার পেছনেও এটি বড় কারণ।
এই সমস্যা নিয়ে দেশে এখনো পর্যাপ্ত স্বাধীন গবেষণা নেই, যা একটি নীতিগত ঘাটতি। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পর্যায়ক্রমিক অভিযোগ থেকে যে চিত্র পাওয়া যায়, তা হলো, আইনশৃঙ্খলার অবনতির ব্যয় শেষতক পণ্যের দামে যুক্ত হয় অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়। রপ্তানিমুখী শিল্প ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট। কারণ তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল পরিবহন ও বন্দর-সংশ্লিষ্ট একাধিক স্তরের ওপর নির্ভরশীল। যত দিন এই ঝুঁকি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত ও মোকাবিলা করা না যাচ্ছে, তত দিন বিনিয়োগ সহজীকরণের যেকোনো সংস্কার পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী ফল দেবে না।
র্যাব থেকে এসআরবি—এই রূপান্তর যদি কেবল নাম ও পোশাক পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা প্রতীকী অর্জন হতে পারে, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে না। একটি বাহিনীর নাম বদলে জনআস্থা ফেরানো তখনই সম্ভব, যখন তার সঙ্গে যুক্ত থাকে স্বচ্ছ জবাবদিহি, অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং অতীতের বিতর্কিত কার্যক্রমের স্বাধীন পর্যালোচনা। একই যুক্তি প্রযোজ্য চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও আইন-শৃংখলার উন্নতির ক্ষেত্রে—থানা পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কারও পক্ষে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানানোর সাহস তৈরি হবে না।
এ অবস্থায় করণীয় স্পষ্ট। প্রথমত, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও আইনশৃংখলার উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট, দ্রুত ও ব্যবসায়ী-বান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানানো যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাহিনী পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন কার্যকর করা প্রয়োজন, যাতে অতীতের মতো ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তদন্তযোগ্য হয়। তৃতীয়ত, বিনিয়োগসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় ও অস্বচ্ছতা কমাতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য না হন। চতুর্থত, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে চাঁদাবাজিসহ আইনশৃংখলার মতো সমস্যা প্রকাশ্যে আলোচিত হতে পারে।
‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বিতর্কিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবকে নতুন নাম ও কাঠামোয় পুনর্গঠন। এর আগে বাহিনীটির নাম বদলে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ রাখার কথা শোনা গিয়েছিল। তবে প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—আইনশৃঙ্খলার সংকটে ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে যে অনাস্থা বিরাজমান; একটি বিতর্কিত বাহিনীর নাম বদল তাতে কতটা প্রভাব রাখবে?
নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। বাস্তবতা হলো, নির্বাচন-পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার রেশ কাটতে এখনো সময় লাগছে। ব্যবসায়ীদের পর্যবেক্ষণ, নতুন মূলধনী বিনিয়োগে স্থবিরতার পেছনে অন্তত পাঁচটি কারণ রয়েছে—রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, উচ্চ সুদহার, ডলার সংকট। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা এমন একটি বিষয়, যা কেবল বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি করে না—বরং দেশি উদ্যোক্তাদের আস্থাহীনতার মধ্য দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তও প্রভাবিত করে।
চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ অনিবার্যভাবেই আসে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমে আসছে—পরিবহন থেকে পাইকারি বাজার, নির্মাণ খাত, এমনকি শিল্প-কারখানা পর্যন্ত এর প্রভাব বিস্তৃত। একজন ব্যবসায়ীর জন্য চাঁদাবাজি কেবল অতিরিক্ত ব্যয় নয়—এটি অনিশ্চিত, অননুমেয় ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কর, যা তার পরিকল্পনাকে অস্বচ্ছ করে তোলে এবং প্রান্তিক মুনাফার ব্যবসাগুলোকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। পণ্যের দাম বেড়ে ওঠার পেছনেও এটি বড় কারণ।
এই সমস্যা নিয়ে দেশে এখনো পর্যাপ্ত স্বাধীন গবেষণা নেই, যা একটি নীতিগত ঘাটতি। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পর্যায়ক্রমিক অভিযোগ থেকে যে চিত্র পাওয়া যায়, তা হলো, আইনশৃঙ্খলার অবনতির ব্যয় শেষতক পণ্যের দামে যুক্ত হয় অথবা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়। রপ্তানিমুখী শিল্প ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট। কারণ তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল পরিবহন ও বন্দর-সংশ্লিষ্ট একাধিক স্তরের ওপর নির্ভরশীল। যত দিন এই ঝুঁকি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত ও মোকাবিলা করা না যাচ্ছে, তত দিন বিনিয়োগ সহজীকরণের যেকোনো সংস্কার পূর্ণ সম্ভাবনা অনুযায়ী ফল দেবে না।
র্যাব থেকে এসআরবি—এই রূপান্তর যদি কেবল নাম ও পোশাক পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা প্রতীকী অর্জন হতে পারে, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে না। একটি বাহিনীর নাম বদলে জনআস্থা ফেরানো তখনই সম্ভব, যখন তার সঙ্গে যুক্ত থাকে স্বচ্ছ জবাবদিহি, অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এবং অতীতের বিতর্কিত কার্যক্রমের স্বাধীন পর্যালোচনা। একই যুক্তি প্রযোজ্য চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও আইন-শৃংখলার উন্নতির ক্ষেত্রে—থানা পর্যায়ে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কারও পক্ষে প্রকাশ্যে অভিযোগ জানানোর সাহস তৈরি হবে না।
এ অবস্থায় করণীয় স্পষ্ট। প্রথমত, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ ও আইনশৃংখলার উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট, দ্রুত ও ব্যবসায়ী-বান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানানো যায় এবং নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাহিনী পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন কার্যকর করা প্রয়োজন, যাতে অতীতের মতো ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তদন্তযোগ্য হয়। তৃতীয়ত, বিনিয়োগসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় ও অস্বচ্ছতা কমাতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য না হন। চতুর্থত, স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে চাঁদাবাজিসহ আইনশৃংখলার মতো সমস্যা প্রকাশ্যে আলোচিত হতে পারে।
.png)

কোনো জাতির ইতিহাস কেবল ঘটনাবলির ধারাবিবরণী নয়; তা জাতীয় চেতনা, আত্মপরিচয়, গণসংগ্রামের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যের নির্ভরযোগ্য দলিল। বিশেষ করে গণআন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা জাতীয় সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি।
৬ ঘণ্টা আগে
গত ৫ আগস্ট, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর সন্ধ্যায়, নয়াদিল্লিতে বসে দণ্ডিত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন, ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন। একই সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির ভাষা ছিল কঠোর। সেই কাঠিন্য আবেগের নয়, আইনের।
১২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি বড় দুর্বলতা হলো এই সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক বা "রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্র" সম্পর্কের ভিত্তির চেয়ে অনেক বেশি "সরকার থেকে সরকার" অথবা নির্দিষ্ট "রাজনৈতিক দল কেন্দ্রিক" কাঠামোর ওপর গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক নীতিতে কোনো টেকসই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই দেশের...
১৩ ঘণ্টা আগে
২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে এনসিটিবি। উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মহৎ—শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা। কিন্তু প্রশ্ন হলো- বরাবরের মতো এবারও হঠাৎ করে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া একটি সিদ্ধান্তের গিনিপিগ হবে না তো আমাদের সন্তানেরা?
১৪ ঘণ্টা আগে