‘বাংলার জয়যাত্রা’ ফিরছে না এখনই, কী করবেন নাবিকেরা

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২০: ৩৯
আরব সাগরে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানের পথে রওনা হয়েছে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। গত ২৩ জুন ভোরে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে লাল-সবুজের পতাকাবাহী জাহাজটি এখন ইয়েমেন উপকূলের আরব সাগরে রয়েছে। যদিও সহসা দেশে ফেরা হচ্ছে না বাংলার জয়যাত্রার।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাগরের বুকে যুদ্ধ-আতঙ্কের মধ্যে পরপর দুটি ঈদ কাটানোর পর এখন আমরা ৩১ বাংলাদেশি নাবিক বাড়ি ফেরার প্রহর গুনছি।’

জাহাজের নাবিকেরা ডারবান থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেদিন আমরা বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারব, সেদিন হবে আমাদের ঈদ।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন চালায়। এরপর প্রতিরোধে হিসেবে উপসাগরীয় দেশের মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা করে তেহরান। যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে পারস্য উপসাগরে ১১৫ দিন আটকা পড়ে এমভি বাংলার জয়যাত্রা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর মধ্যে গত ২৩ জুন ভোরে হরমুজ প্রণালি পার হয় বাংলার জয়যাত্রা।

এমভি বাংলার জয়যাত্রার বাংলাদেশি নাবিকদের কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত
এমভি বাংলার জয়যাত্রার বাংলাদেশি নাবিকদের কয়েকজন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তাদের গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দর। সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ জুলাই ডারবানে পৌঁছাবে। ১৩ জুলাই তাদের বদলি নাবিকেরা (রিলিভার) সেখানে পৌঁছাবেন। এরপর ১৪ জুলাই নাবিকেরা জাহাজ ছাড়বেন এবং আকাশপথে ১৫ জুলাই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা তাদের। তবে ডারবান বন্দরে জাহাজের ‘বার্থিং শিডিউলের’ ওপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় পণ্য খালাসের পরে জাহাজটির দেশে ফেরার কোনো তাড়া নেই। এজন্য ডারবানে নাবিকদের ছুটি দিয়ে বদলি নাবিকদের (রিলিভার) জাহাজে ওঠানো হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমোডর মাহমুদুল মালেক আগেই জানিয়েছেন, জাহাজটি আন্তর্জাতিক অন্য রুটগুলোতে পণ্য পরিবহন করবে।

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর এমভি বাংলার জয়যাত্রা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে নোঙর করেছিল। সেখানে জাহাজের তলদেশের শ্যাওলা পরিষ্কার ও জ্বালানি তেল সংগ্রহ করার পর গত ২৬ জুন ডারবানের উদ্দেশে রওনা হয়।

জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান জানান, জাহাজে বর্তমানে ৩৭ হাজার ৫০০ টন সার রয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে এসব সার বোঝাই করা হয়। কিন্তু হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে না পারায় দীর্ঘদিন এসব সার নিয়েই পারস্য উপসাগরের একাধিক বন্দরে অবস্থানে বাধ্য হয় বাংলার জয়যাত্রা।

মেরিটাইম ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মেরিন ট্রাফিক’ এবং ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলামের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে জাহাজটি আরব সাগরে ইয়েমেন উপকূলের পাশ দিয়ে ৭ দশমিক ৮ নটিক্যাল মাইল গতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

১৮০ মিটার দীর্ঘ ও ৩২ দশমিক ০৬ মিটার চওড়া বাল্ক ক্যারিয়ার বাংলার জয়যাত্রা বিএসসির মালিকানাধীন। জাহাজটি ভাড়ায় (চার্টার) পরিচালনা করছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘দাবা প্রাইভেট লিমিটেড’। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের সময় যুদ্ধপরিস্থিতিতে আটকা পড়ে। এরপর তিনবার চেষ্টা করেও নিরাপত্তার কারণে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি বাংলার জয়যাত্রা। ২২ জুন সকালে শারজাহ বন্দরের বহির্নোঙর থেকে রওনা হয়ে পরদিন প্রণালি পার হয় জাহাজটি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত