এসএসসি

ফল প্রকাশের তারিখ কেন দুই দফা পিছিয়েছিল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ১২
এসএসসির ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আজ (১০ আগস্ট)। এবছর সার্বিক পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ; যা গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। পরে বোর্ডগুলো ২৮ বা ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত করার আশ্বাস দিয়েছিল। এরপর চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১০ আগস্ট। সবমিলিয়ে লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮২ দিন পর এবার এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত হলো। এবার এত দেরি হলো কেন, এই প্রশ্ন অনেকেই করছেন। দেশে এসএসসি পরীক্ষার ইতিহাসে এর আগে কি কখনো ফল প্রকাশে এতটা সময় লেগেছিল?

৮২ দিনের অপেক্ষা

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং শেষ হয়েছে ২০ মে। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেছিল। ৮ জুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছিলেন, ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা হবে। কারণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু ২০ জুলাই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষামন্ত্রী ২০ জুলাই ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ফল প্রকাশে কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে। তখন বলা হয়েছিল ২৮ বা ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।

এরপর ২৭ জুলাই ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ফল প্রকাশ করা হবে ১০ আগস্ট। পরপর দুই দফা ফল প্রকাশের তারিখ পেছানোর এই ঘটনাকে গত দুই দশকের মধ্যে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে কি এমন ঘটনা ঘটেছিল

এসএসসির ফল সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যেই প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের ফলও প্রকাশ করা হয়েছিল দুই মাসের মধ্যেই। তবে অতীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। যেমন, ২০২০-২১ সালে করোনা মহামারির কারণে পরীক্ষার স্বাভাবিক সময়সূচিই ভেঙে পড়েছিল। আবার ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষাও বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি এবং ফল প্রকাশেও বিলম্ব হয়েছিল।

ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে দীর্ঘ বিলম্বের আরও নজির আছে। কিন্তু সেগুলোর বড় অংশই পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এবার বিলম্বের পেছনে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করেছে। যেমন এসএসসি ফল প্রস্তুতি ও এইচএসসি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা একই সময়ে করতে হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় গুছিয়ে নিতেও সময় লেগেছে।

পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ শুধু বোর্ডের প্রযুক্তিগত কাজ নয়। ফল প্রকাশের আগে মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়। এবার ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন এমন পরিকল্পনাও ছিল। বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের সময়সূচি সমন্বয় করতেও অতিরিক্ত সময় লেগেছে।

ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে পরীক্ষার্থীদের নম্বর বা ফলাফলের মান পরিবর্তন হয়েছে এমন তথ্য কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য এর বাস্তব প্রভাব ছিল অন্য জায়গায়। এসএসসি ফলের ওপর নির্ভর করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি, কলেজ নির্বাচন এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা। ফলে ফল প্রকাশ যত পিছিয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই এসব কার্যক্রমও পিছিয়ে পড়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত