রোহিঙ্গা ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া: আনোয়ার ইব্রাহিম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৭: ৫২
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: পিএমও

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এ লক্ষ্যে দুই দেশ আসিয়ানের মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

আজ সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা নিরসনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া অভিন্ন প্রচেষ্টা চালাবে। এ উদ্যোগ দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কার্যালয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে এবং মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা লাঘবে কাজ করব। একই সঙ্গে আসিয়ানের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সংকটের অন্তত একটি অংশের সমাধানে চেষ্টা চালানো হবে।’

এর আগে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর এবং এই সফরের জন্য তিনি মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো প্রথম দেশগুলোর মধ্যেও মালয়েশিয়া ছিল।

রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথা তুলে ধরেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে এবং গাজায় সংঘটিত নৃশংসতার নিন্দা জানানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একই অবস্থানে রয়েছে। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘গাজায় জায়নবাদী ইসরায়েলি শাসনের অপরাধ ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে আমরা একসঙ্গে আছি।’

ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। যুবনেতা থাকাকালে এবং পরে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়েছিল। তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিনি নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন এবং নিজের আদর্শে অবিচল থেকেছেন। নিজের দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসে তাদের স্বাধীনতা, অগ্রগতি ও উন্নয়নের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করেছেন।’

আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, ‘আমরা আপনাকে আমাদের বর্ধিত পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করি। আমাদের মধ্যে এই বন্ধন এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আমি আশাবাদী।’

অন্যদিকে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে চায় এবং সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আরসিইপিতে যোগ দিতেও আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক একীভূতকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নিবন্ধিত শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গা, ১৫ হাজার ৭৭৪ জন চিন সম্প্রদায়ের সদস্য এবং আরও ৩৩ হাজার ২ জন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

গত রোববার (২১ জুন) স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-১-এ পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন। এরপর তিনি চীনের উদ্দেশে কুয়ালালামপুর ছাড়েন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত