জ্বালানি তেল কালোবাজারি ও মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: আইনমন্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ১২
বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি ও মজুতদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে; যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চরধলহরাচন্দ্র গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তেল-সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই সংকটটা তৈরি হচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে এসে, গাড়ি নিয়ে এসে একই দিনে দুই তিনবার তারা লাইন দিয়ে তেল নিয়ে গিয়ে বাসায় রেখে বোতল-ড্রামে ভর্তি করে রেখে আবার তেল নিতে আসছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন সফট লাইনে ছিলাম। আমরা বলেছি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে সেকশন ২৫-এ যে শাস্তির বিধান করা হয়েছে, প্রয়োজন বোধে সেই শাস্তি আমরা প্রয়োগ করব, তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমরা সেই কারণে প্রশাসনকে বলছি, আপনারা কঠোর হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এর সঙ্গে জড়িত থাকে, সবার আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করবেন। যদি বিএনপির কোনো নেতাকর্মী এই অকাম করে, তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেন। যদি কেউ তার পক্ষে তদবির করতে আসে, তাঁকেও গ্রেপ্তার করুন সহযোগী হিসেবে। আমরা যেকোনো মূল্যে কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, এখানেই প্রতারণার ফাঁদ। জুলাই সনদ থাকা না থাকার ওপরে গণভোটের ভোট বাতিল হওয়া না হওয়া নির্ভর করে না। জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, স্বকীয় এবং কার্যকরী।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে। এখানে কোনো ইফ অ্যান্ড বাট নাই। সুতরাং যারা বলছেন গণভোট বাতিল হলে জুলাই সনদ বাতিল হবে, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।’

মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় আইন ও গুম কমিশন বাতিল হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রিয় বন্ধুরা, এর কোনোটিই বাতিলের খাতায় নেই। এর সবগুলো পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে নতুন বিল আকারে ফিরে আসবে; সেই কথাই বলেছি।’

কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে যে কাজটি করেছেন, সেটা হলো ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নেক্সট বাজেটের মধ্যেই আমরা ব্যাপকহারে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করব। ইতিমধ্যেই ৩৮ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে শৈলকুপাসহ দেশের ১১টি স্থানে কৃষক কার্ড ইস্যু করা হবে।’

আগামী ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খান খনন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের অহংকার, আমাদের বিএনপির অভিভাবক, জিয়া পরিবারের উত্তরসূরী, বাংলাদেশের আপামর জনতার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শৈলকুপা আসতে যাচ্ছেন।’ যেদিন তারেক রহমান শৈলকুপায় আসবেন, সেদিন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে শৈলকুপাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এসময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজালসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত