সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবি সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, অর্থবহ জনপরামর্শ ছাড়াই সংশোধনীর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, আর্টিকেল ১৯, ব্র্যাক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ভয়েসসহ বিভিন্ন সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীর কারণে মতপ্রকাশ-সংক্রান্ত অপরাধের পরিধি আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে ব্যক্তিভেদে ভিন্নতা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে।

সংগঠনগুলোর মতে, খসড়ায় মানহানির সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। পাশাপাশি মানহানি, গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর মতো বিষয়কে অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কিছু অপরাধে বিচার শুরু হওয়ার আগেই কাউকে আটক রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সংশোধনী তৈরির প্রক্রিয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনগুলো। তাদের ভাষ্য, আগে সাইবার আইনসংক্রান্ত বিষয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো।

কিছু অপরাধের বিচার ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় করার প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠন পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সংগঠনগুলোর আরও অভিযোগ, সংশোধনী কার্যকর হলে অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। কিন্তু কনটেন্ট সরানোর স্পষ্ট নিয়ম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগে থেকে জানানোর ব্যবস্থা, স্বাধীন তদারকি কিংবা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি।

তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অর্থবহ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরামর্শ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

তাদের দাবি, নতুন করে এমন একটি খসড়া তৈরি করতে হবে, যাতে সাইবার জগতের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা যায়, নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা বজায় থাকে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত