মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যা

নানক-তাপসদের চার্জ গঠনের শুনানি ফের পেছাল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ০২
এই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আসামি ২৮ জন। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শিক্ষার্থী ফারহান ফায়াজসহ ৯ জনকে হত্যায় ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের (চার্জ) শুনানি আরেক দফা পিছিয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৬ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন– নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। এই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ জন আসামি রয়েছেন।

শুনানিতে এক সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আমরা এক সপ্তাহ সময়ের আবেদন করছি। পরবর্তী তারিখে প্রথমে প্রসিকিউশন, পরে আসামিপক্ষ শুনানি উপস্থাপন করবে।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা আসামিদের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে আবেদন করবেন বলে জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল ধার্য করেন।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন, প্রসিকিউশন থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি।

মামলার আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন– ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম প্রমুখ।

মামলায় প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নৃশংসতা চালায়। আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন শহীদ হন।

সম্পর্কিত