শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করে তাঁরই অপসারণ চাইল বিএনপি নেতারা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
রাজশাহী

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ১২
দাওকান্দি এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে অপসারণে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এই আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

‘দাওকান্দি এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষিকাকে জুটা দিয়ে পেটানোর ঘটনায় বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, গ্রাম্য মাতব্বর আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইউজদার আলী, সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিন প্রমুখ।

অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করা বিএনপি কর্মী ও মাছ ব্যবসায়ী শাহাদাত আলী ছিলেন না। উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, শাহাদাত আলী অসুস্থ। তাঁর হাটে রিং পরানো রয়েছে। এ জন্য উপস্থিত হতে পারেননি।

গত বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ সময় নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে পায়ের জুতা খুলে মারধর করেন শাহাদাত আলী। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, আলেয়া খাতুন নিজেও শাহাদাতকে চড় মারেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২৩ এপ্রিল কলেজের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ এসেছে। এতে তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ভিত্তিহীন। কলেজে আগের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি করতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন আলেয়া খাতুন হীরা।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলেয়ার অপসারণ চেয়ে তিনি বলেন, আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলেয়ার অপসারণ চাই। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিএনপি নেতা আকবর আলী বলেন, ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। ভিডিও ফুটেজেও আমাকে দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর কারণে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শিক্ষিকাকে মারধরে জড়িত শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। একটি হিমাগার থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে হিমাগার কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করে। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে শাহাদাত আলী গত বৃহস্পতিবার কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আলিয়া খাতুন হীরার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়ান।

আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল। এবার তারা এসেছিলেন মাহফিলের নামে চাঁদা নিতে। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমি তাদের বিচার চাই।

অধ্যক্ষ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। দাবি প্রত্যাখ্যান করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল।

সম্পর্কিত