সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে ‘গুমের’ মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

Multiple Authors
স্ট্রিম প্রতিবেদক ও স্ট্রিম সংবাদদাতা
বরিশাল

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ২০: ৫১
সুখরঞ্জন বালী। সংগৃহীত ছবি

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ‘গুম’ হন সুখরঞ্জন বালী। তাঁর গুম ও অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ফজলুর রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার বাড্ডার বাসা থেকে ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আদালতে জমা দেওয়া আটকের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে সুখরঞ্জন বালী তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে গাড়িতে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মূল ফটকের সামনে যান। গাড়ি থামার পরে সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশের লোকজন তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি সাদা ডাবল কেবিন গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর বালীকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ২ মাস ধরে শারীরিক নির্যাতন করে অন্ধকার বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। পরে ভারতে পুশইন করা হয়। ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫ বছর বন্দি থাকার পর কলকাতার গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পায়। খবর পেয়ে তাঁর ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে বাবাকে জামিনে মুক্ত করে নিয়ে আসেন।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রিকুইজিশনের ভিত্তিতেই ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ডিবিতে থাকাকালীন এই কর্মকর্তা ও তাঁর টিম সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। তিনি দাবি করেন, সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসায় তাঁকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছিল।

এই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত