‘সমকামী সহিংসতা’ প্রতিরোধে ৬০০ আলেমের বিবৃতি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

‘সমকামী সহিংসতা’ প্রতিরোধে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৬০০ আলেম। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক
‘সমকামী সহিংসতা’ প্রতিরোধে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকরের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৬০০ আলেম। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

‘সমকামী সহিংসতা’ প্রতিরোধে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৬০০ জন আলেম। এই ধরনের সহিংসতা কেবল মাদ্রাসা নয়, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ঘটছে বলে দাবি করেছেন তারা। সমকামী প্রবণতার পেছনে পশ্চিমা এনজিও এবং সামাজিক অবক্ষয়কেও দায়ী করেছেন আলেমরা।

এই বিবৃতিদাতা আলেমদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম, খতিব, শায়েখ ও মাদ্রাসার মুহতামিমরা (প্রিন্সিপাল)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘মূল্যবোধ আন্দোলন’এর চেয়‍ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, “সাভারের একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের একজন শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত যৌন নিপীড়নের খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ কেবল নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় নির্দেশ করে না, বরং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে। ”

সাভারের এই ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ৩৭৭ ধারাসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এধরনের অপরাধের বিষয়ে নিজেদের ভাষ্য তুলে ধরে তাঁরা বিবৃতিতে বলেছেন , ‘বিগত কয়েক বছর যাবত পশ্চিমা ফান্ডে বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক সমকামী আচরণকে স্বাভাবিকীকরণের কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে এনজিও সহযোগিতা ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে সমকামী নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি লাভ করেছে। অন্যদিকে সমকামিতা প্রতিরোধমূলক দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এতে সমকামিতার ব্যাধি ধীরে ধীরে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। মাদ্রাসা সমাজের বাইরে ভিন্ন গ্রহের কোন ভূখণ্ড নয়। সমাজে যখন কোন অবক্ষয়ের বন্যা বইতে থাকে, মাদ্রাসাও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ দণ্ডবিধির (দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০) ৩৭৭ ধারাতে প্রকৃতিবিরুদ্ধ এবং অস্বাভাবিক যৌন অপরাধের বিচার ও শাস্তির স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু এই ধারার কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় অনৈতিকতার বিস্তার ঘটে চলেছে। আমরা চাই অপরাধীদের ৩৭৭ ধারার আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সমকামিতার প্রচার প্রসারের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি এনজিওর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

বিবৃতিদাতাদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধ ডট কম সাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর মোখতার আহমাদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাসজিদুত তাকওয়া ধানমন্ডির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, সাইন্সল্যাব বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাসান জামিল, মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স পল্লবীর খতিব আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, প্রমুখ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত