ইরানে মার্কিন হামলায় যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫২
ইরানের মিনাবে স্কুলে হামলায় নিহতদের জন্য পাশাপাশি কবর খোঁড়া চলছে। ছবি: রয়টার্স
ইরানের মিনাবে স্কুলে হামলায় নিহতদের জন্য পাশাপাশি কবর খোঁড়া চলছে। ছবি: রয়টার্স

ইরানে একটি স্কুল ও ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন বাহিনীর সামরিক হামলায় যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত দল। জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে যে সামরিক হামলা চালিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানান, ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারে তাইয়েবা’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন বাহিনীর হামলায় প্রায় ১২০ শিক্ষার্থীসহ ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে জেনেও যুক্তরাষ্ট্র ওই স্কুল ভবনে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত বেপরোয়া ভাব প্রদর্শন করেছে।’

জাতিসংঘ দল স্কুলটিকে সুস্পষ্ট বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সেখানে কোনো সামরিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা হয়নি। পরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তের বরাতে জানানো হয়েছিল, ওই হামলার জন্য সম্ভবত মার্কিন বাহিনীই দায়ী। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

একইভাবে ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে চালানো বিমান হামলাকেও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ২২ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি বাছবিচারহীন হামলা।

যদিও চলতি বছরের মার্চ মাসে দেওয়া বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল, ওই দিনে তাদের বাহিনী লামার্দ শহরে কোনো হামলা চালায়নি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত