পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৫: ৩১
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মাঠপর্যায়ে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের (সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী) পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহহেদ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সরকারি পর্যায়ে আমাদের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজে মাঠে রাখতে পারব না। নির্বাচিত সরকার, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমরা পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি বলে আমাদের এখন বিশ্বাস জন্মেছে, জনমনেও বিশ্বাস জন্মেছে।’

‘সেই অবস্থায় আমরা পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি—এ কথা সত্য। তবে, সেটা আমরা কীভাবে করব, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থাগুলো বসে পর্যায়ক্রমে সেই ব্যবস্থা নেবে,’ যোগ করেন তিনি।

কোটা সংস্কার আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সরকার। আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনেক পুলিশ সদস্যও হতাহত হন। পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা, লুট করা হয় অস্ত্র। ৫ আগস্টের পর থানা ছেড়ে কর্মবিরতিতে যায় সারা দেশের পুলিশ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।

ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের (সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও এর ঊর্ধ্বতন সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা) এ ক্ষমতা দেওয়া হয়। অর্থাৎ শুধু সেনাবাহিনী নয়, বিমান ও নৌবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদেরও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়। পরে দফায় দফায় তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত