শাহবাগে মেসে তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০৯: ১৭
তরুণ চিকিৎসক আবিদ হাসান জিসান

মাত্র তিন মাস আগে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল মানুষের সেবা করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তরুণ চিকিৎসক আবিদ হাসান জিসান (২৬)। রাজধানীর শাহবাগের হাবিবুল্লাহ সড়কের একটি মেস থেকে এই মেধাবী চিকিৎসকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আবিদ হাসান জিসান ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাঁকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

জিসানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। বড় ভাই জাহিদ হাসান কান্নাভেজা কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় শেষ কথা হয়েছিল ওর সাথে। তখনই বলেছিল শরীরটা একটু খারাপ লাগছে, মাথা ব্যথা করছে। কে জানত এটাই হবে ওর সাথে শেষ কথা? এরপর দুপুর থেকে ফোন দিচ্ছিলাম, কিন্তু ও আর ফোন ধরল না।’ ফোনে সাড়া না পেয়ে জিসানের রুমমেটকে খবর দেন জাহিদ, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

জিসানের বন্ধু ও রুমমেট দ্বীপ্ত সিংহ জানান তাদের দীর্ঘ পথচলার কথা। তারা দুজনই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে গত বছর ইন্টার্ন শেষ করেছিলেন। তিন মাস আগে একসঙ্গে ঢাকায় চাকরি শুরু করেন এবং শাহবাগের একই মেসে থাকতেন।

দ্বীপ্ত বলেন, ‘সকালে বের হওয়ার সময়ও ওকে ভালো দেখে গিয়েছিলাম। ওর বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে মেসে গিয়ে দেখি, সে বিছানায় অচেতন। অনেক ডেকেও যখন সাড়া দিচ্ছিল না, তখন দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু ডাক্তাররা জানান ও আর নেই।’

চুয়াডাঙ্গার পলাশপাড়া গ্রামের আহসান হাবিবের সন্তান জিসান ছিলেন পরিবারের আশা-ভরসার স্থল। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি। জিসানের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল এবং তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। শাহবাগ থানা পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

সম্পর্কিত