আল-জাজিরার এক্সপ্লেইনার
স্ট্রিম ডেস্ক

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলারে (৩৪৫ লাখ কোটি টাকা) পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, ২০২৪ সালের তুলনায় এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
সহজ হিসাবে এই অর্থ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু ৩৫০ ডলার সামরিক ব্যয়ের সমান। দেশগুলো তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য খরচ বাড়িয়েই চলেছে। প্রশ্ন উঠছে, সামরিক খাতে বিপুল ব্যয়ের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো খাতের বাজেটে কেমন প্রভাব পড়ছে?
২০২৫ সালে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা পাঁচ দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জার্মানি এবং ভারত। যুক্তরাষ্ট্র খরচ করেছে ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার এবং চীনের ব্যয় ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে রাশিয়া, জার্মানি ও ভারতের ব্যয় যথাক্রমে ১৯০, ১১৪ ও ৯২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই এই পাঁচ দেশ করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতি বছরই সামরিক ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে আছে। দেশটি একাই তালিকার পরের চার দেশের মোট ব্যয়ের থেকে বেশি ব্যয় করে।
ইউরোপের অন্য দুই দেশ যুক্তরাজ্য ৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং ইউক্রেন ৮৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।
সামরিক ব্যয়ের সাধারণ প্রবণতা হলো, যুদ্ধের সময় বাড়ে এবং শান্তিকালীন সময়ে কমে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ এর দশকের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৯৫০ সালে এই ব্যয় ছিল ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। ১৯৫৩ সালে তা লাফিয়ে পৌঁছায় ৭৮৮ বিলিয়ন ডলারে। ১৯৫০-১৯৫৩ পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের প্রভাবেই মূলত এই বৃদ্ধি পেয়েছিল।
১৯৫০ এর দশকের শেষের দিক এবং ১৯৬০ এর দশকের শুরুর দিকে এই ব্যয় বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ বিলিয়ন ডলারে স্থির ছিল।
১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্র প্রতিযোগিতাই এর প্রধান কারণ ছিল।
১৯৮৮ সালের মধ্যে সামরিক ব্যয় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ১৯৯১ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় কমে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় আবারও বৃদ্ধি পায়। আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক ব্যয় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেই সময় ন্যাটো সদস্য দেশগুলো তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। ২০১৬ সালের পর থেকে ইউরোপে সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে।
২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ছিল ১ দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা ৪১ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সামরিক খাতে এটাই সর্বোচ্চ ব্যয়।
গুটিকয়েক দেশ বিশ্বব্যাপী অস্ত্রের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। এসব দেশের শক্তিশালী সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২৯৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি হয়েছে। নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যয় করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। বৈশ্বিক অস্ত্র বিক্রির ৩৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে, যার অর্থমূল্য ১১৫ বিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটনের এই আধিপত্যের পেছনে তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও সরকারের সাথে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন উদ্ভাবনও তাদের অস্ত্র বিক্রিতে প্রভাব ফেলে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। এই চুক্তিগুলোর এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৭৭১ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে মাত্র পাঁচ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স, বোয়িং, জেনারেল ডায়নামিক্স এবং নর্থরপ গ্রুম্যান।

অস্ত্র রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। তারা ১৩ শতাংশ বা ৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। এরপর ফ্রান্স ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বা ২৮ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র রপ্তানি করেছে। চীন ও জার্মানি প্রত্যেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ করে ১৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে।
অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে ইসরায়েল ১১ বিলিয়ন ডলার এবং ইতালি ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। যুক্তরাজ্য ১০ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ৮ বিলিয়ন ডলার এবং স্পেন ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছে। বাকি ১২ শতাংশ বা ৩৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে অন্যান্য দেশ।
কোনো দেশ প্রতিরক্ষায় বেশি খরচ করার মানে হলো অন্য কোনো খাত থেকে সেই অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করা। সরকার যদি বাজেট সম্প্রসারণ বা নতুন রাজস্ব আদায় না করে, তবে বর্ধিত সামরিক ব্যয় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আল জাজিরা ১৩৭টি দেশের জিডিপি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ১১৪টি দেশ স্বাস্থ্যসেবায় সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে। ১৪টি দেশ শিক্ষায় এবং ৯টি দেশ সামরিক খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করে।
বিশ্লেষিত তথ্যে দেখা যায়, ইউক্রেন সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করে। তারা স্বাস্থ্যখাতে ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং শিক্ষাখাতে ৫ দশমিক ১ শতাংশ খরচ করে। আলজেরিয়া সামরিক খাতে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যয় করে। ইসরায়েল সামরিক খাতে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে ৭ দশমিক ১ শতাংশ খরচ করে। রাশিয়া সামরিক খাতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে ৭ শতাংশ ব্যয় করে।
কাতার সামরিক খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ খরচ করে। সৌদি আরব, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়াও জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করে। ওমান ও কুয়েত সামরিক খাতে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭ ও ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করে। পোল্যান্ড ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মালি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগে গণসৈন্য সমাবেশ, ভারী সাঁজোয়া যান এবং বিমান শক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো। বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল যুদ্ধ অবকাঠামোর সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। চিরায়ত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অনেক দ্রুত হচ্ছে। ড্রোনের প্রসার, এআই নিয়ন্ত্রিত নজরদারি, সাইবার যুদ্ধের সক্ষমতা, নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র এবং পারমাণবিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির বিস্তার ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং পেন্টাগন প্রতিনিয়ত তাদের যুদ্ধ ব্যবস্থায় বেসরকারিভাবে তৈরি সফটওয়্যার যুক্ত করছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে এআই যুক্ত করতে ওপেনএআই-কে ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে এক্সএআই এবং অ্যানথ্রপিক কোম্পানিকেও ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের সময় ইসরায়েল সরকার পালান্টির কোম্পানির এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানিই নয়, বরং মানবজাতির অগ্রাধিকারের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। যখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলো বাজেটের অভাবে ধুঁকছে, তখন ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তিতে এই বিপুল বিনিয়োগ ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলছে।

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলারে (৩৪৫ লাখ কোটি টাকা) পৌঁছেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, ২০২৪ সালের তুলনায় এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
সহজ হিসাবে এই অর্থ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু ৩৫০ ডলার সামরিক ব্যয়ের সমান। দেশগুলো তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য খরচ বাড়িয়েই চলেছে। প্রশ্ন উঠছে, সামরিক খাতে বিপুল ব্যয়ের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো খাতের বাজেটে কেমন প্রভাব পড়ছে?
২০২৫ সালে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা পাঁচ দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, জার্মানি এবং ভারত। যুক্তরাষ্ট্র খরচ করেছে ৯৫৪ বিলিয়ন ডলার এবং চীনের ব্যয় ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে রাশিয়া, জার্মানি ও ভারতের ব্যয় যথাক্রমে ১৯০, ১১৪ ও ৯২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই এই পাঁচ দেশ করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতি বছরই সামরিক ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে আছে। দেশটি একাই তালিকার পরের চার দেশের মোট ব্যয়ের থেকে বেশি ব্যয় করে।
ইউরোপের অন্য দুই দেশ যুক্তরাজ্য ৮৯ বিলিয়ন ডলার এবং ইউক্রেন ৮৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।
সামরিক ব্যয়ের সাধারণ প্রবণতা হলো, যুদ্ধের সময় বাড়ে এবং শান্তিকালীন সময়ে কমে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ এর দশকের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৯৫০ সালে এই ব্যয় ছিল ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। ১৯৫৩ সালে তা লাফিয়ে পৌঁছায় ৭৮৮ বিলিয়ন ডলারে। ১৯৫০-১৯৫৩ পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের প্রভাবেই মূলত এই বৃদ্ধি পেয়েছিল।
১৯৫০ এর দশকের শেষের দিক এবং ১৯৬০ এর দশকের শুরুর দিকে এই ব্যয় বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ বিলিয়ন ডলারে স্থির ছিল।
১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্র প্রতিযোগিতাই এর প্রধান কারণ ছিল।
১৯৮৮ সালের মধ্যে সামরিক ব্যয় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর ১৯৯১ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় কমে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় আবারও বৃদ্ধি পায়। আফগানিস্তান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক ব্যয় ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেই সময় ন্যাটো সদস্য দেশগুলো তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। ২০১৬ সালের পর থেকে ইউরোপে সামরিক ব্যয় দ্বিগুণ হয়েছে।
২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ছিল ১ দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালে তা ৪১ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৮৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সামরিক খাতে এটাই সর্বোচ্চ ব্যয়।
গুটিকয়েক দেশ বিশ্বব্যাপী অস্ত্রের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। এসব দেশের শক্তিশালী সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ২৯৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রি হয়েছে। নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যয় করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। বৈশ্বিক অস্ত্র বিক্রির ৩৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে, যার অর্থমূল্য ১১৫ বিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটনের এই আধিপত্যের পেছনে তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও সরকারের সাথে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন উদ্ভাবনও তাদের অস্ত্র বিক্রিতে প্রভাব ফেলে।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। এই চুক্তিগুলোর এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৭৭১ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে মাত্র পাঁচ কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স, বোয়িং, জেনারেল ডায়নামিক্স এবং নর্থরপ গ্রুম্যান।

অস্ত্র রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। তারা ১৩ শতাংশ বা ৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। এরপর ফ্রান্স ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বা ২৮ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র রপ্তানি করেছে। চীন ও জার্মানি প্রত্যেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ করে ১৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে।
অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে ইসরায়েল ১১ বিলিয়ন ডলার এবং ইতালি ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। যুক্তরাজ্য ১০ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ৮ বিলিয়ন ডলার এবং স্পেন ৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছে। বাকি ১২ শতাংশ বা ৩৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে অন্যান্য দেশ।
কোনো দেশ প্রতিরক্ষায় বেশি খরচ করার মানে হলো অন্য কোনো খাত থেকে সেই অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করা। সরকার যদি বাজেট সম্প্রসারণ বা নতুন রাজস্ব আদায় না করে, তবে বর্ধিত সামরিক ব্যয় সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আল জাজিরা ১৩৭টি দেশের জিডিপি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, ১১৪টি দেশ স্বাস্থ্যসেবায় সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে। ১৪টি দেশ শিক্ষায় এবং ৯টি দেশ সামরিক খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় করে।
বিশ্লেষিত তথ্যে দেখা যায়, ইউক্রেন সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যয় করে। তারা স্বাস্থ্যখাতে ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং শিক্ষাখাতে ৫ দশমিক ১ শতাংশ খরচ করে। আলজেরিয়া সামরিক খাতে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যয় করে। ইসরায়েল সামরিক খাতে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে ৭ দশমিক ১ শতাংশ খরচ করে। রাশিয়া সামরিক খাতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে ৭ শতাংশ ব্যয় করে।
কাতার সামরিক খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ খরচ করে। সৌদি আরব, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়াও জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি সামরিক খাতে ব্যয় করে। ওমান ও কুয়েত সামরিক খাতে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭ ও ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করে। পোল্যান্ড ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মালি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আগে গণসৈন্য সমাবেশ, ভারী সাঁজোয়া যান এবং বিমান শক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো। বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল যুদ্ধ অবকাঠামোর সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে। চিরায়ত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অনেক দ্রুত হচ্ছে। ড্রোনের প্রসার, এআই নিয়ন্ত্রিত নজরদারি, সাইবার যুদ্ধের সক্ষমতা, নির্ভুল নির্দেশিত অস্ত্র এবং পারমাণবিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির বিস্তার ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং পেন্টাগন প্রতিনিয়ত তাদের যুদ্ধ ব্যবস্থায় বেসরকারিভাবে তৈরি সফটওয়্যার যুক্ত করছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে এআই যুক্ত করতে ওপেনএআই-কে ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে এক্সএআই এবং অ্যানথ্রপিক কোম্পানিকেও ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞের সময় ইসরায়েল সরকার পালান্টির কোম্পানির এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানিই নয়, বরং মানবজাতির অগ্রাধিকারের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। যখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলো বাজেটের অভাবে ধুঁকছে, তখন ধ্বংসাত্মক প্রযুক্তিতে এই বিপুল বিনিয়োগ ভবিষ্যতের বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলছে।

আজকালকের ছেলেমেয়েদের পছন্দের সমীকরণ কেন বদলে যাচ্ছে, তা নিয়ে সাংস্কৃতিক মহলে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। জেনজি বা আজকের প্রজন্মের কাছে শার্লক হোমস যতটা ‘আইকনিক’, ফেলুদা কেন ততটা নয়—এই প্রশ্নও চায়ের আড্ডায়, ঘরোয়া আলোচনায় প্রায়ই শোনা যায়।
৬ ঘণ্টা আগে
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ সীমান্তে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার বিষধর সাপ ও ভয়ংকর কুমির ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে ভারত!
৮ ঘণ্টা আগে
২০২৩-২৪ সালে দক্ষিণ লেবাননে আগ্রাসন চালায় ইসরায়েল। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লেবানন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ইকোসাইড’ বা পরিবেশহত্যার অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েল ওই অঞ্চলের ভৌত এবং পরিবেশগত কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
১ দিন আগে
ঢাকার এক ব্যস্ত মোড়ে দুপুরের রোদে দাঁড়িয়ে আছেন রফিক। তাঁর সামনে ঠেলাগাড়িতে ফুচকার ডালা সাজানো। আরও আছে কাঁচা আম, আলু, মসলা, টকজল। পাশ দিয়ে অবিরাম ছুটে যাচ্ছে বাস, রিকশা, মোটরসাইকেল। সকাল থেকে রাত—এই তাঁর জীবন, এই তাঁর শ্রম। প্রতিদিন তিনি কাজ করেন, আয় করেন, শহরের এক অদৃশ্য চক্রকে সচল রাখেন। কিন্তু প্
১ দিন আগে