রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ, তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে হিট-স্ট্রোকে মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

মোহনপুরে হিট-স্ট্রোকে পাম্পেই লুটিয়ে পরে এক গ্রাহক। সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহে তেলের জন্য পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হিট-স্ট্রোকে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম মো. আলম (৪৫)। তিনি উপজেলার বাকশৈল গ্রামের মনছের আলীর ছেলে।

কেশরহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তেল নিতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন একজন গ্রাহক। উপস্থিত লোকজনই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি গরমে মারা গেছেন।

রাজশাহী আবহওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তীব্র তাপদাহ। এটি চলতি মৌসুমে রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ‘মৃদু’, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ‘মাঝারি’ এবং ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে ‘তীব্র’ তাপদাহ বলা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেলে তেল নেওয়ার জন্য কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলাম। তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে উপস্থিত লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে আলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর বিষয়ে জানতে মোহনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আক্তার হোসেননে ফোনে কল করা হলেও তিনি তা না তোলায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর খবরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ার পরই আলামকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। হিট-স্ট্রোকেই তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিবার আবেদন করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহীতে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ৩টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ এপ্রিলও তাপমাত্রা একই বিন্দুতে পৌঁছেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) তথ্য বলছে, গত কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

সম্পর্কিত