রাজধানীতে পাওনা টাকার জেরে একই পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, কলেজছাত্রী নিহত

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কাজলা ভাঙা প্রেস এলাকায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বাসায় ঢুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে একই পরিবারের চারজনকে জখম করেছেন মোহাম্মদ আবু মুসা নামের এক ব্যক্তি।

এই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে দিয়া আক্তার (২০) নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত দিয়া শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ঘটনায় তাঁর মা ও দুই ভাইবোন গুরুতর আহতবস্থায় এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে হামলাকারী আবু মুসাও নবুউল্লাহর পাল্টা আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকেও ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে কাজলা ভাঙা প্রেস এলাকায় সামাদ মেম্বারের বাড়িতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযুক্ত আবু মুসা পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি ওই বাড়ির বাসিন্দা নবুউল্লাহর কাছে টাকা পাওনা ছিলেন। টাকা আদায়ের লক্ষ্যেই তিনি সোমবার দিবাগত মধ্যরাতের পর ওই বাড়িতে যান।

প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন জানান, গভীর রাতে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরুতে নবুউল্লাহ উত্তেজিত হয়ে আবু মুসাকে কুপিয়ে জখম করেন। এরপর আবু মুসা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবুউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (৪২) আক্রমণ করেন এবং কুপিয়ে তাঁর বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন। মায়ের আর্তচিৎকারে তাঁর সন্তানরা এগিয়ে এলে আবু মুসা তাদের ওপরও চড়াও হন। তাঁর এলোপাতাড়ি কোপে দিয়া আক্তার (২০) ঘটনাস্থলে গুরুতর জখম হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া মোয়াজ (১৫) ও জয়া (১২) দুই ভাইবোনই গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢামেক সূত্র জানায়, ভোরের দিকে আহতদের উদ্ধার করে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু স্ট্রিমকে বলেন, ‘সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত চাপাতিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সবাই হতাহত হওয়ায় মামলা দায়েরে দেরি হচ্ছে। তবে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থা বিষয়টির তদন্ত করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত আবু মুসা একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এছাড়া অন্য কোনও কারণ আছে কিনা এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

সম্পর্কিত