জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত ছবি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সামরিক আদালতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পিলখানার শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছিল এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট ফাইন্ডিংস ছিল। একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে দেওয়ানি বা সিভিল ল’ এবং সামরিক বা মার্শাল ল’—আলাদাভাবে বিচারের আইনি সুযোগ নেই। তাই সেনা আইনেই এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া হবে।

গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে (৭৭) গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি। পরদিন তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রস্তাবিত ১০৮ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রস্তাব আকারে রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে বর্ডার বা ল্যান্ডমাইনের ক্ষয়ক্ষতি রোধে অত্যাধুনিক ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরএসও, আরসা ও আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতে বাংলাদেশ সীমান্তে সংকট তৈরি হচ্ছে। ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জারি রেখেছে।

সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুশইনের সুযোগ কাউকে দেওয়া হয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্ক অবস্থানে প্রতিটি পুশইন সফলভাবে প্রতিহত হয়েছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এমন প্রচারণা চালাতে পারে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। বাংলাদেশ সব সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যদি বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ম মেনে আমাদের পাঠায়, তবে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেবে। এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত