সংকট নিরসনে জ্বালানি খাতের কাঠামোগত সংস্কারে জোর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

‘জ্বালানি সংকট ও পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ণ এবং উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপ। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই নগরায়ণ ও উন্নয়ন ভাবনায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীতে ‘জ্বালানি সংকট ও পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নগরায়ণ এবং উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক সংলাপে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

সংলাপে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলো দিন দিন এসিনির্ভর হয়ে পড়ছে। নকশাগত ত্রুটির কারণে ভবনগুলোতে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ঢোকার সুযোগ কম। আমরা প্রস্তাব দিচ্ছি, ভবনের এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখা হোক। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে “গ্রিন বিল্ডিং” ধারণা বাস্তবায়ন ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি।’

অধ্যাপক আদিল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন কাঠামো মূলত জ্বালানিনির্ভর। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে আমাদের অর্জন ৪ শতাংশের নিচে। আমদানিনির্ভর প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট কৃষি ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

পরিবহন ব্যবস্থার বৈষম্য নিয়ে অধ্যাপক শাম্মী আকতার সেতু বলেন, ‘ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গণপরিবহন, বিশেষ করে বাস ও রেল পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মেট্রোরেল প্রমাণ করেছে গণপরিবহন কতটা কার্যকর। ব্যক্তিগত গাড়ির ঋণের বদলে উন্নত বাস সার্ভিসে গুরুত্ব দিলে জ্বালানি সাশ্রয় হতো।’

শাম্মী আকতার আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি। শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামে দীর্ঘ লোডশেডিং হচ্ছে। এই বৈষম্য কমাতে “পলিসেন্ট্রিক ডেভেলপমেন্ট” বা বহুকেন্দ্রিক নগরায়ণ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এখন সময়ের দাবি।’

সংলাপে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ড. আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক আকতার মাহমুদ, ড. ফরহাদুর রেজা, সাজিদুল হক পাভেল এবং কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ প্রমুখ। বিশেষজ্ঞরা জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে কাঠামোগত সংস্কারের আর কোনো বিকল্প নেই।

সম্পর্কিত