লোডশেডিংয়ে দিশেহারা সৈয়দপুরের কারখানাগুলো

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নীলফামারী

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৩৮
সৈয়দপুরে বিসিক শিল্পনগরীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ১ হাজার কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার শিল্পকারখানাগুলো। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এরই মধ্যে কিছু কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

সৈয়দপুর দেশের উত্তর জনপদের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল। বিসিক শিল্পনগরীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে প্রায় ১ হাজার কারখানা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে হালকা প্রকৌশল কারখানা, রপ্তানিমুখী পোশাক, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

বিশেষ করে উপজেলার হালকা প্রকৌশল পণ্যের চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। এছাড়া এখানকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে। এসব শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের।

কারখানা মালিকরা জানান, তাদের এলাকায় দিনের বেলায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের আয় কমে যাওয়ায় কর্মীদের বেতন ও ব্যাংকঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়ছেন তারা।

শহীদ জহুরুল হক সড়কের হালকা প্রকৌশল কারখানার মালিক লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘আমার কারখানা খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। এই ৯ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়বার লোডশেডিং হচ্ছে। বৈদ্যুতিক গোলযোগে আমার মূল্যবান একটি মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। তাই কারখানা আপাতত বন্ধ রেখেছি।’

তৈরি পোশাক কারখানা এমআর ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান দুলু জানান, ভারতে তার তিন লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানির চুক্তি রয়েছে। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানায় ঠিকমতো উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে সময়মতো পোশাক সরবরাহ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইশিমাস) কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক ও সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, ‘সৈয়দপুর উপজেলায় ৩০০টি হালকা প্রকৌশল শিল্পকারখানা রয়েছে। দেশের হালকা প্রকৌশল খাতে এদের ভূমিকা ব্যাপক। চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা ভয়ানক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘সৈয়দপুরে ৬১ হাজার গ্রাহকের ৪৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এখন বিদ্যুৎ মিলছে ৩৬ মেগাওয়াট। চাহিদার চেয়ে আমরা পাচ্ছি কম। তাই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত