ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ গঠনে গ্রাহক ফোরামের আল্টিমেটাম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ২১: ৪৪
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংককে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। সংগৃহীত ছবি

ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংককে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনে থাকা সংগঠনটি।

আজ সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে এই হুঁশিয়ারি দেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সাত দফা দাবির স্মারকলিপি গভর্নরকে প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি পর্যালোচনা করে সাত দফা দাবিকে যৌক্তিক দাবি হিসেবে স্বীকার করেছে। কিন্তু যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীরা মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

নুর নবী মানিক বলেন, ‘ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার এবং আমানতকারীদের যৌক্তিক সাত দফা বাস্তবায়ন না করে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র সফল করার কাজ করছে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি দেশ ও জনগণের কল্যাণ চায়, ব্যাংকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সাত দফা দাবি মেনে নিতে হবে। নতুবা আগামী বুধবার ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’

গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলো হলো—আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা; ২০১৭ সালে গায়ের জোর ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া বৈধ মালিকানা প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া; ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এস আলমসহ সব ব্যাংক লুটেরাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা; ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান সব ধরনের আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা; ব্যাংকের লুণ্ঠিত সব অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা; ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা অবিলম্বে বাতিল করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য এবং এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার যে প্রচ্ছন্ন আভাস দেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত