সীতাকুণ্ডে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়েরও

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১০: ২৩
স্বামীর সঙ্গে নিহত তারিন ও তাঁদের সন্তান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক মা ও তাঁর ২২ মাস বয়সী শিশুসন্তান নিহত হয়েছে। মোটরসাইকেল থেকে শিশুসন্তান ছিটকে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে দ্রুতগতির একটি গাড়ির চাপায় নিহত হন মা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশুটিকেও বাঁচানো যায়নি।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে উপজেলার ভাটিয়ারী বিএম গেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।

নিহত মোছাম্মৎ তারিন (২৮) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তাঁর স্বামী জাকারিয়া নয়ন ও সন্তানকে নিয়ে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্যমতে, ঘোরাঘুরি শেষে রাতে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় ফিরছিলেন তারা। পথে ভাটিয়ারী বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএম) গেট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝাঁকুনিতে মায়ের কোল থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে যায় ২২ মাস বয়সী শিশুটি। সন্তানকে বাঁচাতে তৎক্ষণাত মোটরসাইকেল থেকে লাফ দেন তারিন। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান তারিনকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আর গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শোকাহত স্বামী জাকারিয়া নয়ন অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই বিশৃঙ্খলার সুযোগে কেউ তার স্ত্রীর ব্যাগ নিয়ে গেছে। ব্যাগটিতে মোবাইল ফোন, টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলে জানান তিনি।

বারো আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হক বলেন, ‘ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব থেকে ফেরার পথে মোটরসাইকেল থেকে শিশু সন্তান পড়ে গেলে মা তাকে বাঁচাতে লাফ দেন। এ সময় একটি গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই মায়ের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে শিশুটিও মারা যায়।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা তারিন ও তার শিশুসন্তানের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘটনাটি আমাদের হতবিহ্বল করেছে।’

সম্পর্কিত