চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ০৪
চুয়াডাঙ্গায় রায় ঘোষণার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আলোচিত স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিকের (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার আড়াই বছর পর সোমবার (২০ জুলাই) জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের ঘোষণার পর আসামি আবুলকে কঠোর পুলিশ প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়।

হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী উপজেলার একটি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। দণ্ডিত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তার ছোটবোন ও দুই প্রতিবেশী শিশুর সঙ্গে একটি মাঠে শাক তুলতে যায়। তবে দুপুরে তার বোন ও সঙ্গীরা বাড়ি ফিরে তাদের মাকে জানায়, এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর ভ্যান রেখে ভুক্তভোগী শিশুকে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে পাশের একটি ফসলি নিয়ে যায়। অনেক সময় পর লোকটা একা ফিরে আসে অন্যদের জানায়, শিশুটি একটু পরে ফিরে আসবে। বিষয়টি সন্দেহ হলে শিশুটি মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে গিয়ে শিশুর গলাকাটা মরদেহ দেখেন।

ওই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেন জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলা চলাকালে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি আবুল হোসেন। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে বিচারক আজ সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এজন্য ৩১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এতে মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন ওহিদুজ্জামান মুকুল।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, ‘সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদনে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এই হত্যা মামলার রায় হওয়াতে বাদীপক্ষ তাদের মেয়ের ন্যায়বিচার পেয়েছে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত