leadT1ad

সাড়ে ৪ কোটি টাকার শোধনাগার দুই মাস পর বন্ধ, বিশুদ্ধ পানি সংকটে ৬০০ পরিবার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৬
দুই মাস পানি সরবরাহের পর বন্ধ হয়ে গেছে শোধনাগার। স্ট্রিম ছবি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় দেড় বছর আগে একটি পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হলেও মাত্র দুই মাস পানি সরবরাহের পর তা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন ৬০০ পরিবারের অন্তত ২ হাজার মানুষ। এ অবস্থার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন পৌরবাসী।

জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার পাঁচটি ওয়ার্ডের নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে ২০২২ সালের শেষ দিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজটি শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসের শেষ দিকে। এক হাজার ২০০ পরিবারের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয় ৬০০ পরিবারে। এ জন্য স্থাপন করা হয় ৮০০ মিটার ট্রান্সমিশন লাইন এবং ১২ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন।

পরে ওই বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শোধনাগারটি পানি সরবরাহের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু পৌরসভায় আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণের সময় ঠিকাদার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মিঠু হোটেলের পেছন থেকে পৌরসভার পেছন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি এবং পৌর বাজার থেকে উপজেলা স্কাউট ভবন পর্যন্ত আরও ১০টি হাউজ কানেকশন কেটে ফেলেন। ফলে শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

কয়েক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পৌরসভার ৬০০ পরিবারের অন্তত দুই হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শোধনাগারে থাকা অবশিষ্ট পানিতে শ্যাওলা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাড়ে ৪ কোটি টাকায় নির্মিত প্রকল্পটির যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা পানি সংকটের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণের সময় ঠিকাদার যে প্রায় ৫০টি পরিবারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন, তা দ্রুত মেরামতের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা পৌরসভার। কিন্তু দায়িত্বহীনতার কারণে কয়েক মাস ধরে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

কয়েক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পৌরসভার ৬০০ পরিবারের অন্তত দুই হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন
কয়েক মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পৌরসভার ৬০০ পরিবারের অন্তত দুই হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন

ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণে তাঁদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আরেক ভুক্তভোগী হিমেল মণ্ডল বলেন, কাজের ঠিকাদার ও পৌরসভার যোগসাজশের কারণে অসংখ্য মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এ বিষয়ে কথা বলতে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা রাজি হননি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণের সময় কেটে ফেলা পানি সরবরাহ লাইনের মেরামতের দায়িত্ব ছিল পৌরসভার। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে এর সমাধানের জন্য প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়হান আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত