স্ট্রিম সংবাদদাতা

মৌলভীবাজার সদরের একটি মোটরসাইকেল শো রুমে কাজ করেন কুমিল্লার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। ছুটি দিনগুলোতে ফিরে যান গ্রামের বাড়িতে। কমলগঞ্জের শমশেরনগর স্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রাই তাঁর পছন্দ। তবে এখানে ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি আছে থাকলেও কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীগামী যাত্রীদের জন্য কোনো টিকিট নেই। বাড়তি টাকায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম স্টেশনের টিকিট কিনতে হয় তাঁদের।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘১০ দিন আগে থেকেও অনলাইনে বা কাউন্টারে চেষ্টা করে টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ স্টেশনে গেলেই দালালদের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ে। নয়তো ট্রেনের টিটিদের ম্যানেজ করে যেতে হয়।’
এই অভিজ্ঞতা হুমায়ন কবিরের একার নয়। প্রতিদিন শতাধিক যাত্রী এর মুখোমুখি হচ্ছেন শমশেরনগর স্টেশনে। পরবর্তী তিনটি স্টেশনের জন্য টিকিট বরাদ্দ না থাকায় এই ভোগান্তি। শেষ ভরসা হিসেবে অনেকে ট্রেনের টিটিইর সঙ্গে আপস করে কোনোভাবে গাদাগাদি করে যাত্রা করেন। কালোবাজারে অতিরিক্ত পথের টিকিট কিনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের কয়েক গুণ বেশি দামে। টিকিট বরাদ্দের জন্য আন্দোলন করেও কোনো সমাধান হয়নি।
হুমায়ুন কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারি আর অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের পকেটও কাটা যাচ্ছে, ভোগান্তিও কমছে না। আমরা বুক ভরা আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই, আতঙ্ক নিয়ে নয়।’
স্টেশনে টিকিট না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন যখন থামে, যাত্রীও ওঠানামা করেন, তখন টিকিট দিতে সমস্যা কোথায়?’

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেস নিয়মিত থামে শমশেরনগর স্টেশনে। তবে এখানে কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্টেশনের কোনো টিকিট বরাদ্দ নেই। তবে সিলেট থেকে চট্টগ্রামের পথে শমশেরনগরের আগের স্টেশন কুলাউড়া ও পরের স্টেশন শ্রীমঙ্গল থেকে এসব গন্তব্যের টিকিট পাওয়া যায়।
শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার রজত কুমার রায় জানান, প্রায় ২০ বছর আগে কুমিল্লার গোমতি এলাকায় এক দুর্ঘটনায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বগি সংকটের কারণে শমশেরনগর স্টেশন থেকে ওই তিন স্টেশনের টিকিট বরাদ্দ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সেই সংকট এখন না থাকলেও ‘সাময়িক’ সিদ্ধান্ত আজও বহাল।
কুলাউড়া স্টেশনে বিক্রি টিকিট অনুযায়ী শোভন চেয়ার ভাড়া কুমিল্লায় ২৩০ টাকা, লাকসামে ২৬০ ও ফেনীতে ২৮০ টাকা হওয়ার কথা। ভানুগাছ স্টেশন থেকে এই ভাড়া আরও কম। কিন্তু শমশেরনগরে এসব স্টেশনের টিকিট না থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে সরাসরি সিলেট-চট্টগ্রামের টিকিট ৩৮৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গন্তব্যের চেয়ে অনেক দূরের ভাড়া গুনতে হচ্ছে কেবল টিকিট বরাদ্দ জটের কারণে।
শমসেরনগর স্টেশনের টিকিট বরাদ্দের দাবিতে ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করেছেন কমলগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘সিলেট রেলপথ সব সময় বৈষম্যের শিকার। এই সড়কে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা হয়, তবুও রেলপথ উন্নয়ন হয়নি। সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের আন্তঃনগর টিকিট একদম পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে আন্দোলন আমাদের ঠিক হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি।’

তিন স্টেশনের টিকিট বরাদ্দ না থাকার কথা স্বীকার করে শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, ‘ঠিক কী কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বরাদ্দ দিচ্ছে না, তা আমি বলতে পারব না। তবে যাত্রী চাহিদা যথেষ্ট আছে। বরাদ্দ দেওয়া হলে সুবিধা হবে।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়বে।
শমশেরনগরের আগের ভানুগাছ স্টেশন মাস্টার গৌড় প্রসন দাস পলাশ বলেন, ‘টিকিট সংকটের বিষয়ে আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। এখনো সমাধান পাইনি।’
কুলাউড়া উপজেলার একাধিক ট্রেনযাত্রী বলেন, শমশেরনগর চা-শিল্প অধ্যুষিত এলাকা। প্রতিদিন শত শত মানুষ কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীতে ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। নিয়মিত টিকিট বরাদ্দ দিলে রেলওয়ের রাজস্বই বাড়বে। ঈদ সামনে রেখে দ্রুত সমাধান না এলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দিতে না পারলেও স্টেশন মাস্টার রজত রায় জানান, দ্রুত সময়ের ভিতরে শমশেরনগর স্টেশন মডেল স্টেশনে রূপান্তরিত হবে। তখন এই রেলপথে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম নতুন দুইটা ট্রেনও চালু হবে। তখন টিকিটের বরাদ্দ বেশি থাকবে বলে তিনি জানান।

মৌলভীবাজার সদরের একটি মোটরসাইকেল শো রুমে কাজ করেন কুমিল্লার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। ছুটি দিনগুলোতে ফিরে যান গ্রামের বাড়িতে। কমলগঞ্জের শমশেরনগর স্টেশন থেকে ট্রেন যাত্রাই তাঁর পছন্দ। তবে এখানে ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি আছে থাকলেও কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীগামী যাত্রীদের জন্য কোনো টিকিট নেই। বাড়তি টাকায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম স্টেশনের টিকিট কিনতে হয় তাঁদের।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘১০ দিন আগে থেকেও অনলাইনে বা কাউন্টারে চেষ্টা করে টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ স্টেশনে গেলেই দালালদের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ে। নয়তো ট্রেনের টিটিদের ম্যানেজ করে যেতে হয়।’
এই অভিজ্ঞতা হুমায়ন কবিরের একার নয়। প্রতিদিন শতাধিক যাত্রী এর মুখোমুখি হচ্ছেন শমশেরনগর স্টেশনে। পরবর্তী তিনটি স্টেশনের জন্য টিকিট বরাদ্দ না থাকায় এই ভোগান্তি। শেষ ভরসা হিসেবে অনেকে ট্রেনের টিটিইর সঙ্গে আপস করে কোনোভাবে গাদাগাদি করে যাত্রা করেন। কালোবাজারে অতিরিক্ত পথের টিকিট কিনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের কয়েক গুণ বেশি দামে। টিকিট বরাদ্দের জন্য আন্দোলন করেও কোনো সমাধান হয়নি।
হুমায়ুন কবির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারি আর অব্যবস্থাপনার কারণে আমাদের পকেটও কাটা যাচ্ছে, ভোগান্তিও কমছে না। আমরা বুক ভরা আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই, আতঙ্ক নিয়ে নয়।’
স্টেশনে টিকিট না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন যখন থামে, যাত্রীও ওঠানামা করেন, তখন টিকিট দিতে সমস্যা কোথায়?’

শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেস নিয়মিত থামে শমশেরনগর স্টেশনে। তবে এখানে কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্টেশনের কোনো টিকিট বরাদ্দ নেই। তবে সিলেট থেকে চট্টগ্রামের পথে শমশেরনগরের আগের স্টেশন কুলাউড়া ও পরের স্টেশন শ্রীমঙ্গল থেকে এসব গন্তব্যের টিকিট পাওয়া যায়।
শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার রজত কুমার রায় জানান, প্রায় ২০ বছর আগে কুমিল্লার গোমতি এলাকায় এক দুর্ঘটনায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বগি সংকটের কারণে শমশেরনগর স্টেশন থেকে ওই তিন স্টেশনের টিকিট বরাদ্দ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সেই সংকট এখন না থাকলেও ‘সাময়িক’ সিদ্ধান্ত আজও বহাল।
কুলাউড়া স্টেশনে বিক্রি টিকিট অনুযায়ী শোভন চেয়ার ভাড়া কুমিল্লায় ২৩০ টাকা, লাকসামে ২৬০ ও ফেনীতে ২৮০ টাকা হওয়ার কথা। ভানুগাছ স্টেশন থেকে এই ভাড়া আরও কম। কিন্তু শমশেরনগরে এসব স্টেশনের টিকিট না থাকায় যাত্রীদের বাধ্য হয়ে সরাসরি সিলেট-চট্টগ্রামের টিকিট ৩৮৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গন্তব্যের চেয়ে অনেক দূরের ভাড়া গুনতে হচ্ছে কেবল টিকিট বরাদ্দ জটের কারণে।
শমসেরনগর স্টেশনের টিকিট বরাদ্দের দাবিতে ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করেছেন কমলগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘সিলেট রেলপথ সব সময় বৈষম্যের শিকার। এই সড়কে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা হয়, তবুও রেলপথ উন্নয়ন হয়নি। সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের আন্তঃনগর টিকিট একদম পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে আন্দোলন আমাদের ঠিক হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি।’

তিন স্টেশনের টিকিট বরাদ্দ না থাকার কথা স্বীকার করে শমশেরনগর স্টেশন মাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, ‘ঠিক কী কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বরাদ্দ দিচ্ছে না, তা আমি বলতে পারব না। তবে যাত্রী চাহিদা যথেষ্ট আছে। বরাদ্দ দেওয়া হলে সুবিধা হবে।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন ঈদে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়বে।
শমশেরনগরের আগের ভানুগাছ স্টেশন মাস্টার গৌড় প্রসন দাস পলাশ বলেন, ‘টিকিট সংকটের বিষয়ে আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। এখনো সমাধান পাইনি।’
কুলাউড়া উপজেলার একাধিক ট্রেনযাত্রী বলেন, শমশেরনগর চা-শিল্প অধ্যুষিত এলাকা। প্রতিদিন শত শত মানুষ কুমিল্লা, লাকসাম ও ফেনীতে ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে যাতায়াত করেন। নিয়মিত টিকিট বরাদ্দ দিলে রেলওয়ের রাজস্বই বাড়বে। ঈদ সামনে রেখে দ্রুত সমাধান না এলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দিতে না পারলেও স্টেশন মাস্টার রজত রায় জানান, দ্রুত সময়ের ভিতরে শমশেরনগর স্টেশন মডেল স্টেশনে রূপান্তরিত হবে। তখন এই রেলপথে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম নতুন দুইটা ট্রেনও চালু হবে। তখন টিকিটের বরাদ্দ বেশি থাকবে বলে তিনি জানান।

সরকার ঘোষিত শিক্ষা সংস্কারের ১২ দফা বাস্তবায়নে দেশে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
১১ মিনিট আগে
সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, সমাজে নারীদের একটি বিশেষ অবস্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ড চালু রাখা হবে। প্রক্সিমিটি টেস্টের মাধ্যমে স্কোরিং ভিত্তিতে এই মুহূর্তে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত– এই তিনটি সেক্টরের কাছে কার্ড পৌঁছানো হবে।
১৪ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় তুলে ধরে সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজও প্রস্তাব করেছে।
২৯ মিনিট আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার ও কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে দ্রুতই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
৩৮ মিনিট আগে