সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীর লাশ মিলল ঝালমুড়ি বিক্রেতার ঘরে, মারধরে সন্দেহভাজন নারী নিহত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নিহত স্কুলছাত্রী ফারজানা সুলতানা। স্ট্রিম গ্রাফিকস

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া খাতুনের (২৬) ঘর থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যায় জড়িত সন্দেহে মারধরে ওই নারী নিহত হয়েছে। স্কুলছাত্রীর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার লুটের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে রাতে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দুপুর ১টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

নিহত স্কুলছাত্রী ফারজানা সুলতানা (৯) স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী এবং কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে। মারধরে নিহত সুমাইয়া খাতুন কাশিবাটি গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর স্বামী এলাকায় নেই বলে জানা গেছে।

ফারজানার খালা মরিয়ম বেগম বলেন, তার ভাগনির কানের সোনার দুলের জন্য হত্যা করেছে সুরাইয়া।

স্কুলছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিদিনের বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় ফারজানা। তবে ছুটির পরও সে বাড়িতে না আসায় বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেন তার বাবা ও স্বজনরা। এক পর্যায়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। পরে কালিগঞ্জ থানায় বিষয়টি অবহিত করেন তারা।

খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় তল্লাশি চালায়। এর এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া খাতুনের ঘর থেকে স্কুলছাত্রী ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সুমাইয়া খাতুনকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার পুতুল বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানাকে স্কুল থেকে সুরাইয়া ডেকে নিয়ে যায়। স্কুলের সিসি ক্যামেরা দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে অবহিত করা হয়।

নলতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশ এমাদুল ইসলাম ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল কাদের খোকন জানান, গতকাল সকালে ফারজানাকে একটু আগে স্কুলে আসতে বলেন ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুরাইয়া আক্তার। সে অনুযায়ী ফারজানা সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে গেলে তাকে ঝালমুড়ি খাওয়ানোর জন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান সুরাইয়া। পরে তাকে হাত-পা বেঁধে কানের সোনার দুল কেড়ে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ আলমারির ড্রয়ারে রেখে দেয়।

এদিকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফারজানার গলাকাটা মরদেহ সুরাইয়ার বাড়ির আলমারিতে থাকার খবর ছড়িয়ে পরে। তবে খবর পেয়েও মরদেহ উদ্ধারে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সুরাইয়াকে আটকে মারধরে পর বাড়িঘর ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

নলতা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান পার্ল, গ্রামবাসী এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ফারজানা ও সুরাইয়া আক্তারের লাশ উদ্ধার করা যায়নি। রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে। নতুন করে এলাকায় যেন সহিংসতা না হয়, সেই জন্য খেয়াল রাখা হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সহিংসতা রোধে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত