স্ট্রিম প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ২০ দিন পার হলেও এখনো অধরা অভিযুক্ত। উল্টো ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম।
তরিকুল ইসলাম জাবির ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ৪৪তম ব্যাচের স্নাতক। তাঁর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ তরিকুলকে এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে ভুক্তভোগী, তাঁর মা ও বোনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরিকুল নানা ধরনের কনটেন্ট পোস্ট করছেন এবং পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করছেন। তরিকুল অনলাইনে ওই ছাত্রীর মানহানির উদ্দেশ্যে একটি ডকুমেন্ট প্রকাশ করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি ভুক্তভোগীর ২৮৯টি আপত্তিকর ও সম্পাদিত ছবি সম্বলিত একটি গুগল ড্রাইভ লিংকও ওই পোস্টে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভুক্তভোগী যখন সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের এই ঘটনাগুলো পুলিশকে জানিয়ে মামলা করতে চান, তখন পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আশুলিয়া থানা পুলিশ যুক্তি দেখায়, ছবিগুলো যেহেতু ব্ল্যাকমেইলের হুমকি ছাড়াই আগেই প্রকাশ করা হয়েছে, তাই বিষয়টিকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গণ্য করা হবে বা আদালতের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশীরা ওই ছাত্রীকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন তরিকুলের ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেন। সেখান থেকে পুলিশ একটি হাতুড়ি ও তরিকুলের পাসপোর্ট উদ্ধার করে। স্ট্রিমের প্রতিবেদকের কাছে ভুক্তভোগী ২৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনার আগের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে জানান, দেড় বছর আগে ক্যাম্পাসে তাঁদের পরিচয় হয়। কিন্তু সম্পর্ক শুরু হওয়ার পরপরই তরিকুলের ‘টক্সিক’ মানসিকতা স্পষ্ট হতে থাকে। ওই ছাত্রী সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলে তরিকুল নির্যাতনের পথ বেছে নেন।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘২০২৫ সালে ব্রেকআপ করতে চাইলে সে আমার ফোন কেড়ে নেয় এবং তিন দিন আমাকে তার বাসায় আটকে রাখে।’ সেই সময় তরিকুল তাঁর একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন, যা কাউকে বলার সাহস পাননি ওই ছাত্রী। সেই দিন থেকেই ভিডিওটি ব্যবহার করে তরিকুল তাঁকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘যখনই আমি বাধা দিতাম, সে ওই ভিডিওর স্ক্রিনশট আমার বোন বা ভাইকে পাঠাত এবং জিজ্ঞেস করত—“এটা কি তোমার বোন?”’ পরিবারের কাছে ছবি পাঠানোর হুমকির পাশাপাশি তরিকুল তাঁর পাড়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর হুমকিও দেন।
ঘটনার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি, ওই ছাত্রী তরিকুলের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তরিকুল তাঁর হলের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন এবং বলেন, ‘আমাকে কি সব সময় তোমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে হবে? সব সময় কি ভিডিওর কথা মনে করিয়ে দিতে হবে?’ এরপর তরিকুল ছাত্রীকে হলের সামনে থেকেই তুলে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সে আমাকে ফ্ল্যাটে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর সে আমাকে চড় মারতে শুরু করে। মেঝেতে পড়ে গেলে সে আমাকে অনবরত লাথি মারে। এরপর আমার মুখ টেপ দিয়ে আটকে দেয় এবং আগে থেকে প্রস্তুত করা দড়ি দিয়ে আমাকে বিছানায় বেঁধে ফেলে। সে আমার ওপর গরম পানি ঢালে, সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়, বেল্ট দিয়ে চাবুক মারে এবং হাতুড়ি দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করে। এরপর সে আমাকে ধর্ষণ করে। সে আমার শরীর থেকে মাংসের টুকরো কেটে নেওয়ারও হুমকি দেয়। ক্ষতস্থানে সে লবণ ছিটিয়ে দেয় এবং রাবিং অ্যালকোহল ঢেলে দেয়।’
বিছানায় বাঁধা অবস্থায় রেখে তরিকুল কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসার কথা বলে নিচতলার ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যায়। ভুক্তভোগী বলেন, ‘সে (তরিকুল) যাওয়ার পর আমি দড়ি খুলতে সক্ষম হই এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিই। আমি ৯৯৯-এ কল করি। কিছুক্ষণ পর সে ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখে প্রথমে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকি। পরে সে চলে যায় এবং দরজা ভাঙার জন্য একটি পাওয়ার টুল নিয়ে ফিরে আসে, যার শব্দে প্রতিবেশীরা জড়ো হতে শুরু করে।’
ভুক্তভোগী জানান, প্রতিবেশীরা আসতে শুরু করলে তরিকুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।
এত কিছুর পরও তরিকুল তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে হয়রানি করে যাচ্ছেন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘পুলিশ আমাকে বলেছে, তারা তাকে (তরিকুলকে) খুঁজে পাচ্ছে না এবং উল্টো আমাকে তাকে ধরার জন্য ফাঁদ পাততে সাহায্য করতে বলেছে।’ ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘আমার পরিবার খুবই সাপোর্টিভ, কিন্তু আমার সঙ্গে যেকোনো সময় খারাপ কিছু ঘটতে পারে এই আতঙ্কে থাকে।’
তরিকুলের পরিচিত বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অনেকেই তাঁদের ক্রমাগত হয়রানি করছেন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘তারা আমার বাবা-মাকে বলে, তরিকুলের পরিবারের সাথে মিলে তারা বিষয়টি মীমাংসা করতে চায়। একজন তো এমনও বলেছে যে এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। সে বলেছে, “যদি আমরা তাদের বিয়ে দিয়ে দিই, তবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”’
বিশ্ববিদ্যালয়েও ওই ছাত্রী প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগী জানান, কিছু সহপাঠী ও সিনিয়র উল্টো তাকে দোষারোপ করছে। মাঝে মাঝে তার নিজেকে একঘরে মনে হয়।
জাবি মেডিকেল সেন্টারের হেলথ অফিসার তানভীর হোসেন জানান, ওই ছাত্রীর হাতে তিন থেকে চার সেন্টিমিটার পোড়া ক্ষত ছিল এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশের তদন্ত
ঘটনার পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। গত ৭ মার্চ মামলার তদন্তভার থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতেই মামলা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, সে এখনো দেশের ভেতরেই আছে, কিন্তু গ্রেপ্তার এড়াতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলেই তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ২০ দিন পার হলেও এখনো অধরা অভিযুক্ত। উল্টো ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম।
তরিকুল ইসলাম জাবির ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ৪৪তম ব্যাচের স্নাতক। তাঁর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ তরিকুলকে এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে ভুক্তভোগী, তাঁর মা ও বোনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরিকুল নানা ধরনের কনটেন্ট পোস্ট করছেন এবং পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে সতর্ক করছেন। তরিকুল অনলাইনে ওই ছাত্রীর মানহানির উদ্দেশ্যে একটি ডকুমেন্ট প্রকাশ করেছেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি ভুক্তভোগীর ২৮৯টি আপত্তিকর ও সম্পাদিত ছবি সম্বলিত একটি গুগল ড্রাইভ লিংকও ওই পোস্টে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভুক্তভোগী যখন সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের এই ঘটনাগুলো পুলিশকে জানিয়ে মামলা করতে চান, তখন পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আশুলিয়া থানা পুলিশ যুক্তি দেখায়, ছবিগুলো যেহেতু ব্ল্যাকমেইলের হুমকি ছাড়াই আগেই প্রকাশ করা হয়েছে, তাই বিষয়টিকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গণ্য করা হবে বা আদালতের মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশীরা ওই ছাত্রীকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন তরিকুলের ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেন। সেখান থেকে পুলিশ একটি হাতুড়ি ও তরিকুলের পাসপোর্ট উদ্ধার করে। স্ট্রিমের প্রতিবেদকের কাছে ভুক্তভোগী ২৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনার আগের দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিবরণ তুলে ধরে জানান, দেড় বছর আগে ক্যাম্পাসে তাঁদের পরিচয় হয়। কিন্তু সম্পর্ক শুরু হওয়ার পরপরই তরিকুলের ‘টক্সিক’ মানসিকতা স্পষ্ট হতে থাকে। ওই ছাত্রী সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিলে তরিকুল নির্যাতনের পথ বেছে নেন।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘২০২৫ সালে ব্রেকআপ করতে চাইলে সে আমার ফোন কেড়ে নেয় এবং তিন দিন আমাকে তার বাসায় আটকে রাখে।’ সেই সময় তরিকুল তাঁর একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন, যা কাউকে বলার সাহস পাননি ওই ছাত্রী। সেই দিন থেকেই ভিডিওটি ব্যবহার করে তরিকুল তাঁকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণ করতে থাকেন।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘যখনই আমি বাধা দিতাম, সে ওই ভিডিওর স্ক্রিনশট আমার বোন বা ভাইকে পাঠাত এবং জিজ্ঞেস করত—“এটা কি তোমার বোন?”’ পরিবারের কাছে ছবি পাঠানোর হুমকির পাশাপাশি তরিকুল তাঁর পাড়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার লাগানোর হুমকিও দেন।
ঘটনার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি, ওই ছাত্রী তরিকুলের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তরিকুল তাঁর হলের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন এবং বলেন, ‘আমাকে কি সব সময় তোমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে হবে? সব সময় কি ভিডিওর কথা মনে করিয়ে দিতে হবে?’ এরপর তরিকুল ছাত্রীকে হলের সামনে থেকেই তুলে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সে আমাকে ফ্ল্যাটে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর সে আমাকে চড় মারতে শুরু করে। মেঝেতে পড়ে গেলে সে আমাকে অনবরত লাথি মারে। এরপর আমার মুখ টেপ দিয়ে আটকে দেয় এবং আগে থেকে প্রস্তুত করা দড়ি দিয়ে আমাকে বিছানায় বেঁধে ফেলে। সে আমার ওপর গরম পানি ঢালে, সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়, বেল্ট দিয়ে চাবুক মারে এবং হাতুড়ি দিয়ে আমার উরুতে আঘাত করে। এরপর সে আমাকে ধর্ষণ করে। সে আমার শরীর থেকে মাংসের টুকরো কেটে নেওয়ারও হুমকি দেয়। ক্ষতস্থানে সে লবণ ছিটিয়ে দেয় এবং রাবিং অ্যালকোহল ঢেলে দেয়।’
বিছানায় বাঁধা অবস্থায় রেখে তরিকুল কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসার কথা বলে নিচতলার ওই ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যায়। ভুক্তভোগী বলেন, ‘সে (তরিকুল) যাওয়ার পর আমি দড়ি খুলতে সক্ষম হই এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিই। আমি ৯৯৯-এ কল করি। কিছুক্ষণ পর সে ফিরে এসে দরজা বন্ধ দেখে প্রথমে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। আমি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকি। পরে সে চলে যায় এবং দরজা ভাঙার জন্য একটি পাওয়ার টুল নিয়ে ফিরে আসে, যার শব্দে প্রতিবেশীরা জড়ো হতে শুরু করে।’
ভুক্তভোগী জানান, প্রতিবেশীরা আসতে শুরু করলে তরিকুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।
এত কিছুর পরও তরিকুল তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে হয়রানি করে যাচ্ছেন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘পুলিশ আমাকে বলেছে, তারা তাকে (তরিকুলকে) খুঁজে পাচ্ছে না এবং উল্টো আমাকে তাকে ধরার জন্য ফাঁদ পাততে সাহায্য করতে বলেছে।’ ভুক্তভোগী আরও বলেন, ‘আমার পরিবার খুবই সাপোর্টিভ, কিন্তু আমার সঙ্গে যেকোনো সময় খারাপ কিছু ঘটতে পারে এই আতঙ্কে থাকে।’
তরিকুলের পরিচিত বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে অনেকেই তাঁদের ক্রমাগত হয়রানি করছেন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘তারা আমার বাবা-মাকে বলে, তরিকুলের পরিবারের সাথে মিলে তারা বিষয়টি মীমাংসা করতে চায়। একজন তো এমনও বলেছে যে এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। সে বলেছে, “যদি আমরা তাদের বিয়ে দিয়ে দিই, তবে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”’
বিশ্ববিদ্যালয়েও ওই ছাত্রী প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগী জানান, কিছু সহপাঠী ও সিনিয়র উল্টো তাকে দোষারোপ করছে। মাঝে মাঝে তার নিজেকে একঘরে মনে হয়।
জাবি মেডিকেল সেন্টারের হেলথ অফিসার তানভীর হোসেন জানান, ওই ছাত্রীর হাতে তিন থেকে চার সেন্টিমিটার পোড়া ক্ষত ছিল এবং পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশের তদন্ত
ঘটনার পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। গত ৭ মার্চ মামলার তদন্তভার থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতেই মামলা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্ত ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, সে এখনো দেশের ভেতরেই আছে, কিন্তু গ্রেপ্তার এড়াতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলেই তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সোনারগাঁওয়ে পৃথক দুটি গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। ফতুল্লায় একই পরিবারের বাবা ও দুই বোনের পর এবার মারা গেছে ১২ বছর বয়সী মুন্না ও ৭ বছর বয়সী মুন্নি। অন্যদিকে সোনারগাঁওয়ে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
৫ মিনিট আগে
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য বা নীল প্যানেল। সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪টি পদের ১৩টিতেই জয়ী হয়েছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে কেবল একজন সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন।
১০ মিনিট আগে
সব করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের বর্ধিত সময়সীমা আজ শেষ হতে যাচ্ছে। তবে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী ১৫ মে শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় করদাতারা আগামী ১৭ মে পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
১ ঘণ্টা আগে