চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চায় সরকার: ফখরুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩৪
বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সভায় কথা বলছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগৃহীত ছবি

চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চীন সফর তা আরও এগিয়ে নেয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে এই সম্পর্ক শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগে বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি এসেছে।

রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায়ও বিএনপিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন। বিএনপি চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায়। একই সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেয়।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আমরা চীন থেকে আমদানি ও রপ্তানি করব। চীনও আমাদের দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি করবে। আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে চীনের নেতৃত্ব চায় বাংলাদেশ।

মির্জা ফখরুল জানান, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে চীনের অগ্রগতি বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অবকাঠামো নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ জ্বালানি এবং কারিগরি শিক্ষায় চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে চীন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তিনি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ এবং রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে চীন আগ্রহী। দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানেও চীন তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

চীনের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার বিষয়ে চীন আগ্রহী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত