একাধিক মামলায় বাবুলের স্ত্রী হত্যার আসামিসহ ২ সন্ত্রাসীর জামিন, উদ্বেগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর তালিকাভুক্ত দুই সন্ত্রাসী শহীদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যা এবং এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা একাধিক মামলায় জামিন পেয়েছেন। গত ১১ দিনে শহীদুলকে তিনটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি এহতেশামুল পেয়েছেন দুটি মামলায় জামিন। তবে তাদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন আরও মামলা থাকায় আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।

এদিকে, শহীদুলের জামিনের খবর প্রকাশের পর চান্দগাঁও ও আশপাশের এলাকার অনেক বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চান্দনাইশ বাজারের এক ব্যবসায়িক নেতা স্ট্রিমকে বলেন, টাকা না দিলেই শহীদুল গুলি করত। গুলির ভয় তো সবারই আছে ভাই! বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, শহীদুল মুক্তি পেলে এলাকায় আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি বেড়ে যেতে পারে।

আদালত ও কারা সূত্র বলছে, শহীদুল ইসলাম হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ৩২টি মামলার আসামি। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি অস্ত্র ও গুলিসহ তিনি গ্রেপ্তার। এর মধ্যে চান্দগাঁও থানার দুটি অস্ত্র মামলায় গত ২ জুলাই এবং পাঁচলাইশ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ১২ জুলাই হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনটি মামলার জামিননামা যাচাই শেষে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। তিনটি মামলায় জামিন পেলেও অন্যান্য মামলায় আটকাদেশ বহাল থাকায় তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তথ্য ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাষ্য অনুযায়ী, নগরের চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন শহীদুল। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, অস্ত্রের ব্যবহার এবং কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। চাঁদার দাবি পূরণ না হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে গুলি চালানোর একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে।

গত বছরের ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশের বাদুরতলা এলাকায় একটি মোটর গ্যারেজে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁর সহযোগী প্রকাশ্যে গুলি চালান। এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১০ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার পাশের একটি মোটর গ্যারেজে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে শহীদুল নিজেই গুলি চালিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এছাড়া, গত বছরের জুলাইয়ে বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় শহীদুলের কথিত ‘টর্চার সেল’ এ অভিযান চালিয়ে তাঁর ১১ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও গুলির খোসা জব্দ করা হয়। পরে অক্টোবরে শুলকবহর এলাকায় আরেকটি অভিযানে তাঁর সহযোগীদের কাছ থেকে অস্ত্র, মাদক এবং টাকা গণনার একটি মেশিন জব্দ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রির অর্থ দ্রুত গণনায় ওই যন্ত্র ব্যবহার করা হতো।

এদিকে, নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী এহতেশামুল হক ওরফে ভোলার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে বাকি মামলা বিচারাধীন থাকায় কারামুক্তি হয়নি।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোলার বিরুদ্ধে আটটি মামলার মধ্যে সব মিলিয়ে ছয়টিতে জামিন মিললেও নতুন একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি এখনও কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এহতেশামুল বাকলিয়া এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবী হত্যা মামলার আসামি। এছাড়া সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যা মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, আলোচিত এসব সন্ত্রাসীর জামিনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তারা যাতে নতুন করে কোনো অপরাধে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত