ঢাবিতে ছিনতাই-মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা

অভিযুক্ত অভি রহমান, আল শামস, অমিত হাসান অমি ও সানিয়াত শুভ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে তিনজনকে মারধর, মোটরসাইকেল আটকে রাখা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম সাজিদ।

সাজিদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর, সূর্যসেন, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র। তাদের মধ্যে আল শামস, শিহাব, সানিয়াত শুভ, সাদমান সাকিব, হীরা রহমান, অভি রহমান শাখা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই রাতে ঢাবির ভিসি চত্বরে আড্ডা দেওয়ার সময় ফারদিন খান, আব্দুর রহিম সাজিদ ও মোর্শেদ আহমেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের একজনকে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর ও টাকা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মারধরের শিকার তিনজনই ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।

শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কী ঘটেছিল সেই রাতে

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৬ জুলাই রাতে ভিসি চত্বরে তারা আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ঢাবি শিক্ষার্থী আল শামসের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের জেরা শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ফারদিনের মোটরসাইকেলের চাবি চান। অস্বীকৃতি জানালে ফারদিনকে মারধর করে বাইকটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরে সাজিদকে ডেকে এনে সেন্ট্রাল লাইব্রেরির পেছনের অন্ধকারে মারধর করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে জোর করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেওয়ার চেষ্টা করলে দৌড়ে শাহবাগ থানায় আশ্রয় নেন তিনি। পরে থানা-পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়রের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ডেকে এনে তাদের দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক পেটানো হয়। পরে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অভিযুক্ত অভি রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অভিযুক্ত অভি রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ১৪ মে একই স্থানে তাদের আটকে পাঁচ হাজার টাকা ছিনতাই ও মারধর করেছিলেন অভিযুক্তরা।

অভিযোগ অস্বীকার করে আল শামস বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগে তাদের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল, যা মীমাংসা হয়ে যায়। জোর করে তুলে নেওয়া বা টাকা ছিনতাইয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ অন্যদিকে, সানিয়াত শুভ, হীরা রহমান ও অভি রহমানও মারধরের সময় ঘটনাস্থলে থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন জানান, অভিযোগের বিষয় তারাও জেনেছেন। তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘মোরাল পুলিশিং, ছিনতাই বা এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত