বগুড়ায় বিমানবন্দরের সঙ্গে ফ্লাইং একাডেমি করারও পরিকল্পনা: মন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ১২: ৪৯
কথা বলছেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)

উত্তরের জেলা বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপনের পাশাপাশি একটি ফ্লাইং একাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)। আরও বেশি করে পাইলট তৈরির উদ্দেশ্যে এমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক পাইলটের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে পাইলট হওয়ার সুযোগ পায়, সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই অধিবেশন হয়।

বিগত সময়ে পর্যটন খাতে তেমন কোনো কাজ হয়নি দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটন খাত সবচেয়ে রুগ্ন অবস্থায় আছে। এটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চান পর্যটনকে একটি শিল্পে পরিণত করতে। সরকার ও বেসরকারি খাত মিলেই এ খাতের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। কেউ আগ্রহী হলে পর্যটনে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা করতে পারেন।’

যেসব জেলায় বিমানবন্দর আছে, সেসব জেলার ডিসিরা কী বলেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দর আরও উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আরও কয়েকটি বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—ঠাকুরগাঁও, বগুড়া।’ আগামী ৭ মে বগুড়া সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যটন যদি সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়, তবে অনেক দর্শনার্থী আসবে। দেশকেও মানুষ জানবে, চিনবে। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা পর্যটক হিসেবে আসবেন, তারা যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।

মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প। দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে থাকা পর্যটনস্থানগুলো সংস্কার এবং নতুন পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মনপুরা এবং নেত্রকোনার মতো জায়গাগুলোতে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এভাবে চার-পাঁচটি জেলার কথা এসেছে। পর্যটন যদি সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়, তবে অনেক দর্শনার্থী আসবে। দেশকেও মানুষ জানবে, চিনবে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায় থেকে প্রস্তাবগুলো এলে মন্ত্রণালয় সেগুলো বাস্তবায়নে সব রকম সহযোগিতা করবে।

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আগত দর্শনার্থীরা কোনো নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।

পাশাপাশি কক্সবাজারকে আরও ভালো রাখা এবং সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দিকেও কাজ করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনে বছরের কিছু সময় বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে আজ আলোচনা হয়নি, তবে এটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। কারণ এই মন্ত্রণালয়ের কাজই হলো বিমান ও পর্যটন খাত নিয়ে কাজ করা।

সম্পর্কিত