করপোরেট করহার ৫ বছরের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১৮: ৩২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্ট্রিম গ্রাফিক

আগামী পাঁচ বছর করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা এবং রপ্তানি প্রণোদনার ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, এই পদক্ষেপগুলো আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

দেশে বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এনবিআর একাধিক প্রস্তাব তৈরি করেছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে বিদ্যমান করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে যেসব খাতে করের হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যবসায়িক তারল্য বাড়াতে অনুমোদন অযোগ্য খরচের সীমা বৃদ্ধি এবং উৎসে কর কর্তন না হলে ব্যয় অগ্রাহ্য করার বিধান বাতিল করে করদাতার কার্যকর করভার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নে অডিটের জন্য মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কোনো একটি গোষ্ঠীকে এভাবে সুযোগ দেওয়া ঠিক না। এখানে স্পষ্টত বৈষম্য হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এমন দাবি অনেকদিন ধরেই করছে, পাঁচ বছর তো অনেক সময়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা যদি দেশের জন্য কিছু করতে পারে তাহলে ভালো হবে। কিন্তু দেশের জন্য কিছু করবে কিনা সেটাই হলো দেখার বিষয়। কারণ ব্যবসায়ীরা সব সময় নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য কিছু করা উচিত।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫ শতাংশের ব্যবধান বহাল রেখে করপোরেট করহার প্রস্তাব করবে এনবিআর। আইপিওর পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্ত (ডিরেক্ট লিস্টিং) হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ, এটি নতুন সংযোজন হচ্ছে। তবে এ ধরনের কোম্পানির সব আয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে করহার হবে ২০ শতাংশ। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ; তবে এই শ্রেণির কোম্পানিও সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করলে করহার ২৫ শতাংশে নেমে আসবে।

মোবাইল কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ছাড়তে আরও বেশি উৎসাহিত করতে কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো মোবাইল কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট বছরের প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

সবচেয়ে বড় সংস্কারের প্রস্তাব করা হচ্ছে ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে। এতদিন করযোগ্য বা কম আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা ব্যবসার পুঁজি সংকট তৈরি করত। আন্তর্জাতিক বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটে উৎসে কর্তিত করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এই সুবিধা দিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়:

এনবিআরকর

সম্পর্কিত