leadT1ad

নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩: ৪৬
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: বাসস

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তর থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই রিট আবেদনটি করেন।

রিটে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় নির্বাচনের পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী জানান, রিট পিটিশনে লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা বা নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে যুক্তি দেখানো হয়েছে, সরকার কয়েকজন প্রার্থীর জন্য গানম্যান বা বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেও দেশের ‘আপামর’ ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। আবেদনে বলা হয়, ‘এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায়, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে।

রিট আবেদনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়।

আবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার না হওয়া এসব মারণাস্ত্র নির্বাচনের সময় সহিংসতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‌্যাব মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী মাহমুদুল হাসান জানান, আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত