leadT1ad

নাটোর-৩

সিংড়ায় এনসিপির পালে জোটের হাওয়া, বিএনপির গলার কাঁটা ‘বিদ্রোহী’ দাউদার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

দাউদার আহমেদ, আনোয়ারুল ইসলাম আনু ও জার্জিস কাদির। স্ট্রিম কোলাজ

নির্বাচনী মাঠে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের চিত্র এখন অনেকটা পরিষ্কার। জোটের সমীকরণে এই আসনে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থী না রেখে এনসিপিকে সমর্থন দেওয়ায় নির্বাচনী মাঠে নতুন শক্তির উদয় হয়েছে। এনসিপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এস এম জার্জিস কাদির বাবু এখন জোটের একক প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে। অন্যদিকে, ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলেরই প্রভাবশালী বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ।

জোটের একক প্রার্থী যখন এনসিপির জার্জিস কাদির

সিংড়ায় জামায়াতের বিশাল ভোটব্যাংক এবার সরাসরি যুক্ত হচ্ছে এনসিপির বাক্সে। আসনটি জোটের পক্ষ থেকে এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকদূর এগিয়েছে। রাজশাহী নিউ ডিগ্রী সরকারি কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ মনে করেন, সিংড়াবাসীর অধিকার আদায়ে এনসিপিই এখন একমাত্র বিকল্প।

তিনি বলেন, ‘সিংড়াবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও যৌক্তিক অধিকার আদায়ে এনসিপিই ভূমিকা রাখতে পারবে। জোটবদ্ধভাবে আমরা মাঠে আছি এবং ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। জোটের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এ কারণে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও করা হয়নি।’

বিএনপির গৃহদাহ: আনুর গলার কাঁটা দাউদার

বিএনপি থেকে অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সিংড়া বিএনপির একটি বড় অংশ তা মেনে নিতে পারছে না বলে দাবি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাটোর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ত্যাগের মূল্যায়ন না করে আনুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক আওয়ামী লীগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক (চাচা শ্বশুর) থাকায় দলের ভেতরেই আনুকে নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই।’

এদিকে সিংড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সবুজ মাহমুদ দাবি করেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ থাকা এই নেতার রয়েছে নিজস্ব ভোটব্যাংক। দাউদারকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপির হাইকমান্ড ভুল করেছে। দাউদার মাহমুদ যদি শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, তবে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে, যার সরাসরি সুবিধা পাবে এনসিপি।

বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু স্ট্রিমকে বলেন, তিনি একজন পরীক্ষিত নেতা। সে কারণেই দল তাঁর ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দিয়েছে। সিংড়ার সাধারণ জনগণসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরাও তাঁর প্রতি আস্থাশীল।

আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও তাতে নির্বাচনের ফলাফলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। সিংড়ার সর্বস্তরের মানুষ বিপুল ভোটে তাঁকে জয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দাউদার মাহমুদ স্ট্রিমকে বলেন, দলের দুর্দিন ও দুঃসময়ে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। মামলা, হামলা ও কারাবরণ করেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া তার একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়; দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে যারা বিএনপি করে আসছেন, তাদের অনুরোধেই তিনি প্রার্থী হয়েছেন।

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই উল্লেখ করে বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সে কারণেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী সমীকরণ: কার পাল্লা ভারী

সিংড়ার সমাজসেবক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রভাষক আব্দুল কাদের বলেন, ‘লড়াইটা হবে মূলত ত্রিমুখী। একদিকে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জার্জিস কাদির, অন্যদিকে বিএনপির দুই মেরুর লড়াই। দাউদার মাহমুদ যদি মাঠে অনড় থাকেন, তবে ধানের শীষের প্রার্থী আনুর জন্য জয় পাওয়া জটিল হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে এনসিপি-জামায়াত জোটের ভোট ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে জার্জিস কাদির এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে থাকবেন না স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ।’

কী বলছেন ভোটারেরা

সিংড়ার তরুণ ভোটার নবীন আহমেদ ও পিয়াস মাহমুদ জানান, এবার ব্যক্তি ও প্রতীকের চেয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। সিংড়া চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা। এই এলাকায় বিগত দিনে উন্নয়নের নামে লুটপাট করা হয়েছে। আগামীতে যার দ্বারা উন্নয়ন, শিক্ষা এগিয়ে থাকবে তার দিকেই ঝুঁকবেন তাঁরা।

এদিকে বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা খলিলুর রহমান ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা রুহুল আমিনও ছোট পরিসরে তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিগত দিনের বঞ্চনা আর বর্তমানের রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে সিংড়াবাসী শেষ পর্যন্ত এনসিপির ওপর আস্থা রাখে নাকি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দীর্ণ বিএনপির কোনো পক্ষকে বেছে নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত