মহাখালী বাস টার্মিনাল

যাত্রী কমলেও বেড়েছে ভোগান্তি, উধাও লোকাল বাস

যাত্রী কম থাকলেও ছিল বাস সংকট। স্ট্রিম ছবি

মহাখালী বাস টার্মিনালে এবার ঈদে যাত্রী কম থাকলেও যানজট ও পরিবহন সংকটের ভোগান্তি বেড়েছে। পোশাক কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় লোকাল বাসগুলো যাত্রী নিয়ে গাজীপুর থেকে ফিরে যাচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বিআরটিসির দোতলা বাস নামিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

মঙ্গলবার টার্মিনাল ঘুরে বাসের এই সংকটের কারণ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ময়মনসিংহগামী ইউনাইটেড পরিবহনের যাত্রী ও বেসরকারি চাকরিজীবী ফজলুল হক নামের এক যাত্রী বলেন, বাস বিপর্যয় শতভাগ সিন্ডিকেট। টার্মিনালে সৌখিন বা অন্যান্য লোকাল বাস একটাও নেই। তারা হয়তো গাজীপুর থেকেই যাত্রী নিয়ে ঘুরে যাচ্ছে। এখান থেকে শুধু নির্দিষ্ট কিছু বাস ছাড়ছে।

নেত্রকোনার যাত্রী কিরণ জানান, ভাটি বাংলাসহ অন্যান্য পরিবহনগুলো মাঝরাস্তা থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তবে বাস আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ নাকচ করে টাঙ্গাইলের যাত্রী নিশাদ বলেন, এখানে কোনো বাস আটকায় নেই, রাস্তায় আটকায় আছে। গোপালপুর, বিনিময়, ধলেশ্বরী, যুটিকা এগুলো চন্দ্রা থেকে টিকিট দিচ্ছে। ফলে বাস সেখান থেকেই ঘুরে যাচ্ছে।

টার্মিনাল থেকে লোকাল বাস উধাও হয়ে ঢাকার বাইরে থেকে ছেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পোশাক শ্রমিকদের ছুটির দিকে ইঙ্গিত করে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতম সাহা বলেন, গার্মেন্টসের অনেক লোকজন আছে, তারা সেই বাসগুলোতে যাচ্ছে। তাই সেগুলো টার্মিনালে আসছে না। গাজীপুরের দিক থেকেই গন্তব্যে যাচ্ছে।

এদিকে টার্মিনালের কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হলেও কালোবাজারে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

কিশোরগঞ্জগামী যাত্রী শাহীন আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘ধৈর্য তো সারা দিনই থাকা যায়, কিন্তু তারা তো ব্ল্যাকে (কালোবাজারে) টিকিট বিক্রি করে দেয়। ৩৪০ বা ৩৫০ টাকার টিকিট ব্ল্যাকে বেচতেছে ৫০০, ৬০০ টাকায়।’

খালি বাস ফেরার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনে কিছুটা বাড়তি ভাড়া দিতেও রাজি বলে জানান টাঙ্গাইলের যাত্রী শাহীন আলম। তিনি বলেন, ‘গাড়ি ভইরা যায়, আবার তো খালি আসে। দরকার হয় ৫০ টাকা বাড়তি নিক, তবুও গাড়ি আসুক। এটা বইলা আমাগো বলুক, ভাড়াটা বাড়িয়ে দেন, গাড়ি চলে আসুক।’

তবে কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই জানান ‘একতা’ পরিবহনের এক কর্মী।

ফজলুল হক বলেন, ‘আগে যে ভাড়া ছিল, এখনও তা-ই আছে, ভাড়া বাড়ায় নাই। কিন্তু গাড়ি লেট । আড়াই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, বলছে বাস আসতে আরও দুই ঘণ্টা লাগবে। বাসে উঠতেই মিনিমাম পাঁচ ঘণ্টা লেগে যাবে।’

প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নেত্রকোণাগামী রফ রফ পরিবহনের যাত্রী কিরণ বলেন, ‘দুই ঘণ্টার উপরে হইছে। কত ঘণ্টায় আসবে তা তো বলা যায় না। খালি বলছে গাড়ি আসতেছে। টিকিট এখনো কাটি নাই, কাটার জন্য দাঁড়িয়ে আছি।’

টাঙ্গাইল যাওয়ার জন্য টার্মিনালে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা নিরালা পরিবহনের যাত্রী নিশাদ ও শাহীন আলম জানান, বাস সংকটে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বেশি কষ্ট হচ্ছে ।

মহাখালী বাস টার্মিনালের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে টার্মিনাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সোহেল সরকার বলেন, সব ভালো আছে, স্বাভাবিক আছে। চুরি, ছিনতাই, মলমপার্টি, অজ্ঞানপার্টি ইত্যাদির দৌরাত্ম্য নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

টার্মিনালে শিডিউল বিপর্যয় ও বাস সংকট কারণে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি বাস নামানোর কথা জানিয়ে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতম সাহা বলেন, ‘যে জায়গাগুলোতে গাড়ির সংখ্যা কম, যাত্রীর চাপ বেশি, আমরা সরকারি বিআরটিসি গাড়ির মাধ্যমে সে সমস্ত জায়গায় যাত্রী দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা করছি। অলরেডি সকাল থেকে বগুড়াতে বাস পাঠিয়েছি, নওগাঁতে পাঠিয়েছি, টাঙ্গাইলের দোতলা বাস গেছে। ময়মনসিংহও এখন বিআরটিসি ডাবল ডেকার যাবে।’

সম্পর্কিত